পুলক সরকার ॥ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর মামার বাড়ি, যা মূলত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যদুবয়রা গ্রামে গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম স্মৃতিবিজড়িত স্থান। এটি লাহিড়ী বাড়ি নামেও পরিচিত। এই বাড়িটি ক্ষুদিরাম বসুর অন্যতম মামাবাড়ি হিসেবে পরিচিত। বাড়িটি চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত একটি দোতলা ভবন। এই ঐতিহাসিক বাড়িটি বর্তমানে ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় থাকলেও, এর সাথে ক্ষুদিরামের জীবনের শেষদিকের নাটকীয় ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে।
ঐতিহাসিক মতানুসারে, মুজাফফরপুরে কিংসফোর্ডকে বোমা মারার ঘটনার পর ক্ষুদিরাম বসু এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখানেই ব্রিটিশ বাহিনীর হাতে তিনি গ্রেফতার হন। কথিত আছে, এই বাড়ির পূর্ণ চন্দ্র লাহিড়ী (যিনি একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন) ক্ষুদিরামকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। মূলত ব্রিটিশ আমলে চুন সুড়কি ও ইট দিয়ে দ্বিতল বিশিষ্ট বাড়ীটি তৈরি করেন পূর্ণ চন্দ্র লাহিড়ী। বর্তমানে বাড়িটি জরাজীর্ণ এবং কালের সাক্ষী হিসেবে টিকে থাকার লড়াই করছে।
দ্বিতলা বিল্ডিংটির নিচ তলায় চারটি কক্ষ ও একটি হল রুম আছে। দ্বিতলায় দুটি বড় কক্ষ ও পিছনের বারান্দা রয়েছে। দ্বিতল বিল্ডিংটির পাশে একটি মন্দির রয়েছে। পূর্ণচন্দ্র লাহিড়ী পূজোর সময় এখানে এসে ধুম ধামের সাথে পূজা করতেন। এছাড়া ১৯৬৯ সাল হতে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বিল্ডিংটি মাধ্যমিক স্কুল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন কোন সংস্কার কাজ না হওয়ায় প্লাষ্টার খসে পড়ছে, দেওয়ালে বড় বড় গাছ জন্মেছে। কোন দাবিদার বা তদারকারী না থাকায় দরজা, জানালা সহ মূল্যবান জিনিসপত্র অনেক আগেই চুরি হয়ে গেছে। শতবছরের ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী ঐতিহাসিক লাহিড়ী বাড়ি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। স্থানীয়দের দাবি, পুরোনো অনেক ইতিহাস বহনকারী কাল সাক্ষী এই বাড়িটি, সরকার যেন সংস্কারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করে। অন্যদিকে, বীরভূমের মল্লারপুর এলাকায় আরও একটি মামাবাড়ি রয়েছে, যেখানে ক্ষুদিরামের শৈশবের স্মৃতি জড়িত।
