বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে সামাজিক সংগঠন “ভিশন কুষ্টিয়া”র উদ্যোগে মায়েদের সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মায়েদের তাদের অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গতকাল শুক্রবার (৮ মে) আন্তর্জাতিক মা দিবস উপলক্ষ্যে, দুপুর ৩টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে মায়েদের সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, “ভিশন কুষ্টিয়া’র প্রধান উপদেষ্টা লিনা জাকির। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত ডিআইজি (ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার) মো. আসাদুজ্জামান, দি কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক আক্তারুজ্জামান কাজল মাজমাদার সহ সুশীল সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভিশন কুষ্টিয়ার সভাপতি খোন্দকার আব্দুল মজিদ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, ভিশন কুষ্টিয়া’র সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী। উপস্থাপনা করেন ইবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাশিদুল ইসলাম রাশেদ।
এসময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, মা একটা খুবই ছোট্ট শব্দ। কিন্তু এই শব্দটা খুবই তাৎপর্য। এই ছোট্ট শব্দটার মধ্যে লুকিয়ে আছে সমস্ত আবেগ অনুভূতি এবং আমাদের জীবনের সমস্ত তাৎপর্য। আমরা প্রত্যেকেই কোন এক মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছি।
মায়ের সাথে আমাদের সম্পর্ক পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হওয়ার আগে থেকে। আমাদের জীবনে যতকিছু চাওয়া পাওয়া, আশা আকাঙ্খা, দুঃখ, কষ্ট, সফলতা, বিফলতা সবকিছুই যেনো একজন মায়ের সাথে জড়িত। আজকে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা তথা ভিশন কুষ্টিয়া মায়েদের সম্মাননা প্রদানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য, আমরা চাই আমাদের এলাকাকে সুন্দর ভাবে, সুষ্ঠু ভাবে গড়ে তুলতে এবং এই গড়ে তোলার পিছনে যারা আছে তাদেরকে সম্মানিত করতে।
যেই দেশে গুনীদের মর্যাদা হয় না, সেই দেশে গুনীজনরাও সৃষ্টি হয় না। তাই আমাদের এই সমাজে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাদের সন্তানকে সফল করেছেন, আমরা তাদেরকে আজ সম্মানিত করতে চাই। আমরা জানি আমাদের সবার পিছনে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য করা উচিৎ মায়েদের জন্য কি করতে পারছি, কারন আমাদের বয়স বাড়ারা পাশাপাশি মায়েরাও বয়স্ক হচ্ছেন। অনেকের মা এখনো জীবনের শেষ পর্যায়ে আছে, ছোট বেলায় উনারা আমাদের সময় দিয়েছেন, প্রতিটি কথা, কাজ পদক্ষেপে সময় দিয়েছে। এখন আমাদের সময় দিয়ে তাদের পাশে থাকতে হবে।
আমরা জানি, সকলে যার যার অবস্থান থেকে ব্যস্ত থাকি। তবে যে কোন পরিস্থিতি মায়েদের সময় দিয়ে পাশে থাকতে হবে। এটা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। যিনি ১০ মাস ১০দিন গর্ভে ধারন করে বড় করেছে, তাদের খোঁজ খবর নিতে হবে, মা সময়মত ঔষধ সেবন করছে কি না, বা সুস্থ থাকলে কেমন আছে খোঁজ নেওয়া। এতে মা অনেক খুশি হবে। এই দিনটা পালন শুধু একটা প্রতীকই হোক, এটা যেনো একটা দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। বছরের ৩৬৫ দিনই মায়েদের খোঁজ খবর নিতে হবে এবং তাদেরকে সম্মান করতে হবে।
প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, একজন মা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মায়েদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
এছাড়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ হলো “মা”। একজন মা শুধু সন্তান জন্ম দেন না, তিনি ভালোবাসা, ত্যাগ, আদর্শ ও মানবিকতার প্রথম শিক্ষা দেন। তিনি বলেন, আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র এবং জাতি গঠনের পেছনে মায়েদের অবদান অপরিসীম। একজন মা তাঁর নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন।
তাই মায়ের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, এটি হওয়া উচিত আমাদের প্রতিদিনের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় পরিবার, সামাজিক মূল্যবোধ এবং মানবিক মর্যাদার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা বিশ্বাস করি, মায়েদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ সময় ভিশন কুষ্টিয়া’র উপদেষ্টা লিনা জাকির বলেন, সমাজে মায়েদের অবদানকে সম্মান জানাতে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে পারিবারিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এদিকে অনুষ্ঠানের সভাপতি খোন্দকার আব্দুল মজিদ বলেন, আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা তথা “ভিশন কুষ্টিয়া” সামাজিক সংগঠনটি শুধু মায়েদের সম্মাননা দিচ্ছি না, বরং মায়েদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে মায়ের মর্যাদা রক্ষা করি, তাঁদের পাশে দাঁড়াই এবং মানবিক বাংলাদেশ গঠনে একসাথে কাজ করি। তিনি পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান।
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল মাকে সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সম্মানিত জীবন দান করুন। পরে অনুষ্ঠানে অতিথিরা নির্বাচিত মায়েদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেন। পরে বিভিন্ন শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়।
