খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুন ২০২৬, ৩:৪০ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কমলাপুর ডাক্তারপাড়া এলাকায় জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মসলেম মন্ডল (৫৪) হত্যাকাণ্ডে পূর্বপরিকল্পিত ‘কিলিং মিশনে’ দশের অধিক স্বজন অংশ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, হামলায় জড়িত সবাই মসলেম মন্ডলের নিকট আত্মীয়-স্বজন। দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই পরিবারের একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে।
পরিবারের অভিযোগ, হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ ও ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে সহযোগিতাকারীদের মধ্যে মামুন, জহুরুল, আশরাফুল, উজ্জ্বল, মাহবুব, সোহেল, স্মৃতি, উম্মী, ওয়াহেদা ও মরিয়মসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সরাসরি মারধরে অংশ নেন, অন্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের এগিয়ে আসতে বাধা দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। নিহত মসলেম মন্ডল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ডাক্তারপাড়া এলাকার মৃত আবেশ মন্ডলের ছেলে। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন।
বর্তমানে তিনি বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এ সংযুক্ত ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে মসলেম মন্ডলের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগেও তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং সে ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পূর্ববিরোধের জের ধরেই প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের ভাষ্য, গত বুধবার মাগরিবের পর থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে বিরোধপূর্ণ জমির ওপর অবস্থিত একটি আমবাগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এ সময় মসলেম মন্ডলকে তাঁর বাড়ির গেট থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি বাড়ির সামনে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা একদল ব্যক্তি রড, হাতুড়ি, ধারালো অস্ত্র ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় তাঁর বাম পা, ডান হাত, গোড়ালিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করা হয়। এমনকি ডিল মেশিন দিয়ে তার পা ফুটো করে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহতের বড় ভাইয়ের মেয়ে মোছা. বুলু খাতুন বলেন, জমিজমা নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগেও মসলেম মন্ডলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল এবং সেই মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একই বিরোধের জেরে এবার পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, আহত অবস্থায় মসলেম মন্ডল চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েকজন হামলাকারীর নাম উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, পূর্বেও যারা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছিল, তাদের কয়েকজন এবারও হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ঘটনার দিন পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মসলেম মন্ডলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় থানায় এজাহার জমা পড়েছে। তবে বাদী হওয়া নিয়ে একাধিক ব্যক্তি আগ্রহ প্রকাশ করায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে আইনের বাইরে রাখা হবে না। এদিকে বিশ্বস্ত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, মসলেম মন্ডলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হামলাকারীদের সকলেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য