খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুন ২০২৬, ৩:৯ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ গ্রাম আদালতে স্বল্প সময়ে’ অল্প খরচে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় আস্থা বাড়ছে মানুষের। এমন সত্যতা পাওয়া গিয়েছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, নারীদের বকেয়া ভরণ-পোষণ দাবি, অর্থ ফেরত পাওয়াসহ ফৌজদারি ও দেওয়ানি সংক্রান্ত বিভন্ন অভিযোগের সফল নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। জানা যায়, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রাম আদালত চেয়ারম্যান এনামুল হক বাবলু গ্রাম আদালতের নিয়ম মেনে বিচার কার্য পরিচালনা করছেন তিনি।
এর আগে গ্রাম আদালত সম্পর্কে মানুষ অবগত না থাকলেও বর্তমানে গ্রাম আদালত (এভিসিবি-৩) প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার ফিরোজ হোসেন এর তদারকিতে ছোট খাটো বিরোধ মিমাংসার জন্য গ্রাম আদালত মূখী হচ্ছে এলাকার মানুষ। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এক বার্তায় ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার ফিরোজ হোসেন বলেন, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো: তৌহিদ বিন-হাসান মহোদয় ও স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম মহোদয় এর দিক নির্দেশনায় গ্রাম আদালতের বার্তা পৌছে দিতে আমাদের টিম কাজ করছে।
এদিকে মিরপুর উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ উপজেলার গ্রাম আদালত সমন্বয়কারী তৈমুর হায়াতী ও শিউলি আক্তার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে কাজ করছেন। এরই আলোকে মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের তথ্য মতে জানা যায় চলতি বছরে এ ইউনিয়নে জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৮টি মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া গতকাল বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১টার দিকে চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাম আদালত কক্ষে বিচার কার্য চলছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ভরণ-পোষণের টাকা না পাওয়ায় চিথলিয়া
গ্রামের এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। স্বামী তথা প্রতিবাদীর বাড়ি বারুইপাড়া ইউপির চুনিয়াপাড়া এলাকায়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য তলব করে। শুনানিতে আবেদনকারী স্বপ্না খাতুন ও প্রতিবাদী আজিজুল উভয়ের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। গ্রাম আদালতের আইন অনুযায়ী দুটি পক্ষের মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গ্রাম আদালত গঠন করা হয় এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরবর্তীতে গ্রাম আদালতের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়।
প্রতিবাদী বকেয়া ভরণ-পোষণ দেওয়ার শর্তে সম্মত হন এবং ভবিষ্যতে আবেদনকারী তথা স্ত্রীকে ফেরত নিয়ে নিয়মিত ভরণ-পোষণ প্রদান করার অঙ্গীকার করেন। এতে মামলাটি শান্তিপূর্ণভাবে আপোষে নিষ্পত্তি হয়। এসময় চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রাম আদালত চেয়ারম্যান এনামুল হক বাবলু বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত, সহজ ও স্বল্প খরচে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন। স্থানীয়রা গ্রাম আদালতের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত চলাকালীন উপস্থিত ছিলেন, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামীম খান, সার্বিক কাজে দায়িত্ব পালন করেন গ্রাম আদালত সহকারী রেজা আহাম্মেদ জয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গ্রাম পুলিশ দফাদার সাগর আহমেদ ও অন্য গ্রাম পুলিশসদস্য।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য