খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুন ২০২৬, ৩:৭ এএম

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে লুটপাটের বাজেট হিসেবে মন্তব্য করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেছেন, এই বাজেট অনেকটা চানাচুর মার্কার মতো। এটি শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয়। গতকাল বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কড়া সমালোচনা করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে আমির হামজা বলেন, জাতীয় বাজেট জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রধান মাধ্যম হওয়া উচিত।
কিন্তু এই বাজেটে জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধির জন্য কর প্রশাসনকে আধুনিকায়ন করার তাগিদ দিয়ে তিনি কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না বাড়িয়ে কর আদায়ের জন্য নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন তিনি। দেশের বড় সংকট বেকারত্ব দূর করতে শিল্পায়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই সংসদ সদস্য শিক্ষা খাতের বরাদ্দের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য বাজেট আরও বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষার অবহেলার কথা তুলে ধরে আমির হামজা বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের মাদ্রাসাগুলো যুগ যুগ ধরে অবহেলিত। তিনি দেশের এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা জাতীয়করণের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি কৃষকদের সংকট দূর করতে স্বল্পমূল্যে সার, বীজ এবং শুল্কমুক্ত কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহের ওপর জোর দেন। রেল যোগাযোগ আধুনিকায়নের দাবি তুলে ধরে কুষ্টিয়া-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০-২২ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
এই শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে নতুন রেললাইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে শুনলেও বাস্তবে এখনো কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। আগামী বাজেটে যেন এই রেললাইন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়, তিনি সেই দাবি জানান। বাজেট নিয়ে সরকারের নানা দাবির সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, সরকার বলছে বাজেট নিয়ে নাকি দেশজুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, বাজেট উপস্থাপনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়েছে। বিগত সময়ের মতো এবারের বাজেটের অর্থও যেন সরকারি দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিদেশে পাচার করতে না পারে, সরকারকে তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। গতানুগতিক কথায় এই সংকটের সমাধান হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থপাচার ঠেকাতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পলিসি বা নীতি এখনো জনগণের সামনে স্পষ্ট নয়।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য