মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে হিসনা ও সাগরখালী নদী পুনঃখনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টার দিকে মিরপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া-২, ৩ ও ৪ আসনের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মোসাঃ ফরিদা ইয়াসমিন। পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুষ্টিয়ার বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে হিসনা ও সাগরখালী নদী পলি জমে নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হতো। ফলে বহু বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা নদী পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বিভাগ, কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মোঃ রাশিদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মোসাঃ ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের উন্নয়নে বিভিন্ন নদী ও খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
হিসনা ও সাগরখালী নদী পুনঃখননের মাধ্যমে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে। এতে জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।” তিনি আরও বলেন, “নদী শুধু পানি প্রবাহের মাধ্যম নয়, এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও বজায় থাকবে।” অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা, প্রকৌশলীরা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, নদীগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু জলাবদ্ধতাই কমবে না, বরং কৃষিকাজে পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে ফসল উৎপাদন বাড়বে এবং এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে হিসনা ও সাগরখালী নদী আবারও তার স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরে পাবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল।









