খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুন ২০২৬, ৩:৩৫ এএম

মোশারফ হোসেন ॥ আমাকে বাধ্য করবেন না, আপনারা যদি সহোযোগীতা না করেন আমি রিপোর্ট করতে বাধ্য হবো; এই সময় তিনি, পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, এই অঞ্চলে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হচ্ছে। এই অঞ্চলে চাকরি করতে হলে, বিএনপির নেতাকর্মীদের কথা শুনতে হবে। বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। কুষ্টিয়া-২, ৩ ও ৪ আসনের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন আরো বলেন, বিগত দিনে বিএনপি নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নির্যাতিত ও বঞ্চিত হয়েছেন। এখন আর সেই নির্যাতনের পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনকে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, কোনো প্রশাসন যদি বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের ষড়যন্ত্র করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি চেয়েছি সবাইকে এক ছাতার নিচে একত্রিত করতে। কিন্তু যদি আপনারা সেই সহযোগিতা আমাকে না করেন, তবে আমি রিপোর্ট করতে বাধ্য হব। আমি কোনোদিন কারোর বিপক্ষে যেতে চাই না, কিন্তু আমাকে বাধ্য করবেন না। আমি বিগত জীবনে রাজনীতি করে সংগ্রাম করে, লড়াই করে এখানে এসেছি, কাউকে তোয়াজ করে নয়।
অতএব আমার ব্যাপারে আমি সকলকে সাবধান থাকতে বলব। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এই কুমারখালী-খোকসাতে যদি থাকতে হয়, তাহলে এখানকার বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে কাজ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। কোনো প্রশাসনকে আমরা বলব না যে আপনি কারোর ফেভারে কাজ করেন; আপনি জনগণের সাথে থাকবেন, জনগণের ভালো-মন্দ চিন্তা করবেন। কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন করা হলে তা আমি টলারেট করব না। যদি কোনো প্রশাসন ষড়যন্ত্র করে আপনাদের নিগৃহীত করতে চায়, তাকে এখানে রাখা হবে না। তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়া আমার দায়িত্ব।
দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে সংসদ সদস্য আরও বলেন, “আমার নেতাকর্মী ২০ বছর নিগৃহীত হয়েছে, আপনারা তো সুখে ছিলেন। কেন এখন সেই পুনরাবৃত্তি? আমি এখানে কারুর পূজা করতে আসিনি, সবাইকে নিয়ে কাজ করতে এসেছি। এক ছাতার তলে সবাইকে আসতে হবে। যারা দলের নির্দেশ অমান্য করবেন বা সমন্বয় করবেন না, তাদের জবাবদিহি করতে হবে। এছাড়া যারা অতীতে দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাদের আগামী দিনে ওঠার আর কোনো সিঁড়ি থাকবে না। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি কাউকে বাদ দিতে চাই না, সবাইকে নিয়ে হাঁটতে চাই।
কিন্তু আপনারা কেন সভায় অনুপস্থিত ছিলেন, এর কৈফিয়ত দিতে হবে। আগামী ১৭ বা ১৮ তারিখের দিকে আমি আবার আসব এবং প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে সভা করব। আমাদের লক্ষ্য একটাই—দলকে শক্তিশালী করা এবং আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নওয়াব আলী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জিলাল, কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম লিপন এবং পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম আলম টমে। সভায় জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য