খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুন ২০২৬, ৩:১৪ এএম

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সরকারি ক্যানাল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংলগ্ন এলাকা থেকে রাতের আঁধারে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। দৌলতপুরে সরকারি ক্যানাল থেকে রাতের আঁধারে মাটি কাটার অভিযোগমাটি কাটার অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানাল থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন ইটভাটা ও স্থানে বিক্রি করছে। উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদী টোলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, রাতের বেলায় স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে ক্যানালের পাড় কেটে ট্রলিযোগে মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে ক্যানালের দুই পাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিচের অংশে ক্যানালের পাড় কেটে একটি অংশে ট্রলি চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যানালের শুকনো অংশে মাটি কাটার কারণে বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি স্কেভেটর মেশিনও দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে অন্তত এক হাজার ট্রলি মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অভিযুক্তদের একজন দাবি করেন, তিনি নিজের জমির মাটি কাটছেন, তবে পরবর্তীতে রাতের বেলায় মাটি কাটার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ক্যানালের মাটি কেটে বিক্রি করছে এমন অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ক্যানাল ও বাঁধ রক্ষায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য