প্রিয় মাতৃভূমির বদনখানি কখনও মলিন হতে দিবোনা: শিক্ষা সচিব রেহেনা পারভীন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

প্রিয় মাতৃভূমির বদনখানি কখনও মলিন হতে দিবোনা: শিক্ষা সচিব রেহেনা পারভীন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১০, ২০২৬

মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবমূখর পরিবেশে নারী ক্রিকেট ট্র্নুামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারীদের খেলাধূলার প্রসার, উন্নয়ন ও জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে কুমারখালী এম এন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ড.নাসের ফাউন্ডেশন।  ফাইনাল খেলায় কুমারখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্রিকেট একাদশকে আট উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় দল।

খেলা শেষে সন্ধায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহেনা পারভিন। গতকাল বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গড়াই নদীর কূলঘেঁষে অবস্থিত এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের মাঠে শিলাইদহের খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ব্যাট করছে। আর বল হাতে ছুটছে কুমারখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দলনেতা ঐশী। বল করতেই চার হাকালেন প্রতিপক্ষের খাদিজা। এ সব দেখে মাঠের বাইরে থাকা নানাবয়সি শত শত দর্শকরা করতালি দিয়ে তাদের উৎসাহ দিচ্ছেন। এ সময় বিকেএমএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী আরিফা খাতুন জানায়, ড. নাসের ফাউন্ডেশন চমৎকার আয়োজন করেছে। 

বৃহস্পতিবার তার দল পরাজিত হয়েছে। তবে শেখার জন্য ফাইনাল খেলা দেখতে এসেছেন তিনি। কুমারখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের খেলোয়ার মায়া খাতুন জানান, কুমারখালীতে আধুনিক মানের কোনো খেলার মাঠ নেই। সরঞ্জামাদি, প্রশিক্ষক বা তেমন কোনো আয়োজন নেই। এ সব থাকলে কুমারখালীর মেয়েরাও একদিন জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করত। কবি ও নাট্যকর লিটন আব্বাস জানান, শিল্প, সাহিত্য, সাংস্কৃতি ও খেলাধূলায় কুমারখালীর মাটি উর্বর। তবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে না। প্রথমবার এমন আয়োজন দেখে তিনি খুবই খুশি। জানতে চাইলে ড. নাসের ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও বেকার্সফিল্ড ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশনস বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. মো. আবু নাসের জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ৮টি আন্ত:স্কুলের দল নিয়ে ট্র্নুামেন্টের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারীদের খেলাধূলার প্রসার, উন্নয়ন ও জাতীয় মানের খেলোয়ার তৈরির লক্ষ্যে এমন আয়োজন করা হয়েছে। সকল শ্রেণিপেশার মানুষের ব্যাপক সারা পেয়েছি। ভবিষ্যতেও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধূলার আয়োজন করা হবে। খেলা শেষে সন্ধায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহেনা পারভীন। এ সময় তিনি বলেছেন, দেশের এমন একটি সময়ে নারী ক্রিকেট ট্র্নুামেন্টের এ আয়োজন আমাদের শক্তি ও সাহস যোগায়। শীতের পড়ন্ত বিকেলে নারীদের খেলায় আমি মুগ্ধ – অনুপ্রাণিত।

ছেলেদের আগে এদেশের নারীরাও বিশ্বকাপ ছিনিয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা তাঁর। তিনি আরো বলেছেন, ‘ পুরুষের পাশাপশি এ অঞ্চলে নারীরাও শিক্ষায়, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ায় অনেক ভালো করবে। তাঁরা তাঁদের মধ্যে মননশীলতা, সংবেদনশীলতা সৃষ্টিশীলতা, মানবিকতার পুন:স্ফীত ঘটিয়ে সুনিপুণ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। আজকের এই খেলোয়ারদের পারফর্ম দেখে আমরা আশাবাদী হতে পারি যে, আমাদের আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমির বদনখানি কখনও মলিন হতে দিবোনা।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন  অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম, কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াটারলু’র ভিজিটিং রিসার্চ স্কলার ড. এ কে এম গোলাম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক  ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক প্রমূখ।