বিশেষ প্রতিনিধি ॥ “সবাই বাস থেকে নেমে ঘাটের পাশ দিয়ে হেঁটে আসছিলাম। সামনে তাকাই দেখি আমাদের বাসটা গতির সাথে চোখের পলকে পানিতে পড়ে গেল।” এভাবেই বলছিলেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দুর্ঘটনা কবলিত বাসের যাত্রী আব্দুল আহাদ। তিনি জানান, ফেরিঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়, শুরুতে কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নামতে রাজি ছিলেন না।
“কয়েকজন নামতে চাচ্ছিল না, পরে তাদেরকে অনেকটা জোর করেই বাস থেকে নামানো হয়,” বলেন মি. আহাদ। গতকাল শুক্রবার (৬ জুন) সকালে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ নামের যাত্রীবাহী বাসটি। এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে নৌপুলিশ এবং রাজবাড়ি জেলা প্রশাসন।
বেলা বারোটা নাগাদ বাসটিকে নদী থেকে টেনে তোলা সম্ভব হয়েছে বলেও জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। নৌ পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনার পরই ডুবে যাওয়া বাসটির চালক এবং তার সহযোগীকে উদ্ধার করে দৌলতদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই- ফেরিতে ওঠার সময় ঘাট এলাকায় যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা দিয়েছিল প্রশাসন।
গতকাল শুক্রবার সকালে ৩৮ জন যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস। সকাল দশটার কিছু আগে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায় পদ্মা নদীতে। বাসের যাত্রী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানিয়েছেন, ফেরিতে ওঠার সময় দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ফেরিতে ধাক্কা খায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি। পানিতে পড়ার পর মুহূর্তেই বাসটি তলিয়ে যায়। এসময় বাসের চালক এবং তার সহকারী পানিতে ভেসে উঠলে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফেরিঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় যাত্রীদেরকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও নিশ্চিত করেন বাসটির একজন যাত্রী।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ওই বাসের যাত্রী আব্দুস সালাম নিজের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে বলেন, আমি ও আমার পরিবার সকাল ৭টার সময় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে এস বি পরিবহনের এই বাসে চড়েছিলাম। যদিও বাসটি তার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সব যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। আমরা নামার ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চোখের সামনে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা বেঁচে গেছি, কারণ ওই সময় বাসে চালক ছাড়া কোনো যাত্রী ছিলেন না।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মিঠুন গোস্বামী বলছেন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামে একটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায় যাত্রীবাহী বাসটি। মূলত ফেরিতে ওঠার সময় ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ফেরির র্যামে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারান বলে জানান মি. গোস্বামী।
এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক বারেক শেখ বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনে ৩৭ জন যাত্রী ছিল। এছাড়া বাসের তত্ত্বাবধায়ক, সহকারী ও চালকসহ মোট ৪০ জনের মতো ছিলেন। তিনি আরও বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার জন্য লাইনে দাঁড়ায়। এ সময় ঘাটের বাঁ পাশের একটি পকেটে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামের বড় ফেরি ছিল। অপর পকেটে আরেকটি মাঝারি আকারের ফেরি ছিল। বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ফেরিতে যানবাহন উঠছিল। বাসটি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ফেরিতে ওঠার চেষ্টাকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরেকটি ফেরির র্যামের সঙ্গে আঘাত করে। এ সময় র্যাম ভেঙে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে চলে যায়। বাসটির যাত্রীরা ঘাটে নেমে গিয়েছিলেন। শুধু চালক ও তার সহকারী বাসে ছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
এসব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাস থেকে যাত্রী নামানো অবস্থায় ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আমরা দোকানের সামনে দাাঁড়ানো ছিলাম। গাড়িটা বড় ফেরিতে ওঠার সময় সবাই বলল যে বাসের যাত্রীদের নামিয়ে দাও।
তখন সব যাত্রী নেমে গেল। শুধু ড্রাইভার ও হেলপার ছিল। নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ড্রাইভার অনেক চেষ্টা করেছেন পারেননি। পরে র্যাম ভেঙে পড়ে যায়। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, আমি সকাল ৯টা ৩০-এ কল পেয়ে এসেছি। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নিশ্চিত করেছে যে বাস থেকে সব যাত্রী নেমে গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওই বাসটার এই ফেরিতে ওঠার কথা ছিল না। তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন ভেঙে পড়ে গিয়েছে। ডুবুরি দল আসছে, হামজা আসছে। তারা বাসটাকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস এবং বিআইডব্লিউটিএ এর ডুবুরি দল। পরে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল দশটার একটু আগে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রীদেরকে ফেরিতে ওঠার আগেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানায় পুলিশ। “উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা আসছে, কাজ শুরু করেছে। আমার নৌ-পুলিশ উপর থেকে যাত্রীদেরকে নামিয়ে দিয়েছিল। ড্রাইভর, হেলপার, সুপারভাইজারকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে,” জানান দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা।
দুর্ঘটনায় আহত বাসচালক গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঝন্টু মিয়া বলেন, ‘‘কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট থেকে সকাল সোয়া ৭টার দিকে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ি। এর আগে বাসের ইঞ্জিন ও ব্রেক ঠিক আছে কিনা, তা দেখে নিই। তারপরও ফেরিতে ওঠার আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাই। এ সময় হেলপার আমাকে সতর্ক করে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনে নেমে যায়। এ ছাড়া বাসের ভেতর আমি ছাড়া আর কোনও লোক ছিল না। বাসটি পানিতে তলিয়ে গেলেও সৃষ্টিকর্তার দয়ায় আমি জানালা দিয়ে বের হয়ে ওপরে ভেসে উঠতে সক্ষম হই। তবে কীভাবে বের হলাম জানি না। না-হয় মরেই যেতাম। পরে স্থানীয়রা আমাকে টেনে তীরে তোলেন। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ আমাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।’’
বাসটিতে থাকা সহকারী (হেলপার) সাকিব হোসেন (২৭) দুর্ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পেরে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনের ওপর পড়ে যান। এতে তিনি কিছুটা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। চালক ঝন্টু আলী ও হেলপার সাকিব হোসেনকে চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা পৌনে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে ওপরে তুলতে সক্ষম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, দৌলতদিয়া ঘাটের পন্টুনগুলোতে কোনও লোহার শক্তিশালী রেলিং বা নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। কোনও যান নিয়ন্ত্রণ হারালে তা আটকে রাখার মতো কোনও প্রতিরোধক ব্যবস্থা না থাকায় বাসটি সহজেই পন্টুন থেকে পিছলে নদীতে তলিয়ে যায়। ঘাট সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক ও পন্টুনের সংযোগস্থলের ত্রুটি এবং যানবাহনের যান্ত্রিক ফিটনেসের অভাব বারবার একই ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ জানান, বাসটি ফেরির পাটাতনের শেকল ভেঙে নদীতে পড়ে গেলেও ভেতরে কোনও যাত্রী ছিল না। শুধু চালক ও সহকারী (হেলপার) সামান্য আহত হয়েছেন। নৌ-রুটে যাত্রীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘাটে আরও কঠোর সতর্কতা ও নজরদারি বাড়ানো হবে।
বিআইডব্লিউটিএ’র একজন কর্মকর্তা জানান, ফেরি ঘাট নদীভাঙন কবলিত এলাকা। প্রতি বছরই ভাঙনের সম্ভাবনা থাকে। তাই আমরা চাইলেও স্থায়ীভাবে সংযোগ সড়ক পাকা করা সম্ভব না। নদীর পানি যখন বাড়ে, তখন পানির সঙ্গে সমন্বয় করে পল্টুন ওঠানামা করতে হয়। ফেরি ঘাটের সব কিছু ঠিকঠাক আছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘যেসব গাড়ির ফিটনেস নেই, ওভারলোড সেগুলো ফেরিতে উঠতে সমস্যা করে।’’
ফেরিতে ওঠার সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী না থাকায় বড়ো ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। “বাসটিতে থাকা ৩৮ জন যাত্রীকে ফেরিঘাটেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় উদ্ধার অভিযান চলছে, এখনও কোনো হতাহতের খবর নেই। কারো নিখোঁজ থাকার দাবিও প্রশাসনে কাছে কেউ করেনি,” বলেন তিনি।
এদিকে, প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযানে বেলা বারোটার দিকে বাসটিকে পানি থেকে টেনে তোলে উদ্ধারকারীরা। রাজবাড়ী ফায়ারসার্ভিসের কর্মকর্তা সোহেল রানা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক এবং তার সহকারিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। জীবিত বা মৃত আর কাউকে বাসের ভেতরে পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। “কম সময়ের মধ্যেই আমরা বাসটিকে উদ্ধার করতে পেরেছি। বাসের ভেতরে কিংবা অন্য কোথাও কেউ নিখোঁজ আছে এমন অভিযোগ নেই,” বলেন মি. রানা।
চলতি বছরের ২৫শে মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় সোহার্দ্য পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস। ঈদুল ফিতর এর পরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে ঘটা সেই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানিয়েছিলেন যে, ডুবে যাওয়া বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল। দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করার সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
মি. হোসেন জানান, “সোয়া পাঁচটার দিকে ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে জোরে পন্টুনে আঘাত করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।” সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ঘটনার একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল যে, পানিতে পড়ার পর মুহূর্তেই তলিয়ে যায় দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি। এসময় বেশ কয়েকজনকে সাঁতরে নদীর পাড়ে আসার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি উদ্ধার করে। জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পদ্মায় পড়ে যাওয়া বাসটিকে নদী থেকে তোলা হয়েছে।
কোনো যাত্রী বাসে ছিল না তাই হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যাত্রীদের মালামালগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা এখন যাচাই-বাছাই করে যাত্রীদের মালামালগুলো বুঝিয়ে দেব। সবার প্রতি অনুরোধ আপনারা সচেতন থাকবেন।ফেরিতে ওঠার সময় বাস থেকে নেমে যাবেন এবং লঞ্চে যেন অতিরিক্ত যাত্রী না ওঠে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক এবং পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘‘পুরো ব্যবস্থাপনার মধ্যে যে বিশৃঙ্খলা, এটা আসলে তারই পুনরাবৃত্তি। আমাদের ফেরি ঘাটের বিশেষ করে পল্টুন-জেটিগুলো সুরক্ষার একটা ব্যবস্থাপনা যেমন দরকার, একইসঙ্গে ঘাটের নিয়ন্ত্রণে যারা আছেন, যারা ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করেন, তাদেরও আরও সচেতন হওয়া দরকার।’’
তিনি বলেন, ‘‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমাদের চালক। তাদের সচেতনতা এবং একইসঙ্গে যানবাহনের ফিটনেস—এসব কিছু মিলে এই দুর্ঘটনাগুলো আমরা বারবার দেখছি, পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘দৌলতদিয়া ঘাটের আজকের ঘটনায় যাত্রী কেউ ছিল না। সেটা কিছুটা ব্যবস্থাপনার উন্নতি। এটা আমরা কিছুটা হলেও একটা ক্ষয়ক্ষতির জায়গাটা থেকে সরে আসতে পারছি। কিন্তু আমাদের যানবহনের ফিটনেস নাই, চালকের দক্ষতা বলি বা দীর্ঘ সময় চালক যে স্টিয়ারিংয়ে বসে থাকছে, তার সাথে সাথে ঘাট ব্যবস্থাপনা, সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার।
আমরা গতবারও দেখেছি, দুর্ঘটনার পরে পূর্ণ জেটির চারপাশে রেলিং দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এটা দুর্ঘটনার পরে কেন। দুর্ঘটনার আগেই তো সেফটিটা দরকার। এ জন্য সেফটি অডিট করা নিয়মিত প্রয়োজন। পন্টুনে যে ওঠানামা করছে, এই জায়গাগুলোতে নিয়মিত সেফটি অডিট করতে হবে। নতুবা এই দুর্ঘটনাগুলো ঠেকানো কঠিন হবে। কোনও অবস্থাতেই যাত্রী নিয়ে বাস বা জেটি থেকে ফেরিতে ওঠা বা ফেরি থেকে নামা যেমন করতে পারবে না, একইসঙ্গে কোনোভাবেই যেন হেলপারের হাতে স্টিয়ারিং না যায়।’’
উল্লেখ্য, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পল্টুনে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের আরেকটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় একইভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গিয়েছিল। সেই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পূর্বের সেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির স্মৃতি মাথায় রেখে আজকের এই পুনরাবৃত্তির ঘটনায় ঘাট এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফিটনেস সংক্রান্ত তদারকি নিয়ে আবারও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
