বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকায় পদ্মা নদীর চরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে নৌ পুলিশের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঐ এলাকা ক্রমশ অশান্ত হয়েছে উঠেছে। এ ঘটনায় নৌ পুলিশের ৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও নৌ পুলিশ জানায়, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি নিয়মিত টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় তথাকথিত ‘হযরত বাঙাল বাহিনী’র সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের গুরুতর আহত করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেল প্রায় ৪টা থেকে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দয়রামপুর গ্রামের আব্দুল আলীম, মামুন, রাজবাড়ী পাংশার বালু ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল, আমবাড়িয়ার সম্রাট, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ইয়ারুল, সোহেল, জাফরসহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি দুইটি বলগেট ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে। পরে এসব বালু শিলাইদহ কল্লানপুর এলাকায় তোফাজ্জেলের বালুর গাদায় আনলোড করা হয়। রাতেও তারা পুনরায় একই কার্যক্রম চালায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ইয়ারুলের বিরুদ্ধে ২১টি এবং সোহেলের বিরুদ্ধে ১২টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া, ঘটনার ৮-১০ দিন আগে শিলাইদহের এনএসবি ভাটায় চাঁদা না পেয়ে আব্দুল আলীম ও তার সহযোগীরা গুলিবর্ষণ করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর কুষ্টিয়া সদর থানায় নৌ পুলিশের ওসি খন্দকার শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর-২৪ এবং তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২৬। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
