বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, থানায় আগত অভিযোগকারীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ গ্রহণ না করলে অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম এগোয় না। অভিযোগ রয়েছে, থানায় জমা দেওয়া প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে ওসির নির্ধারিত কর্মকর্তার মাধ্যমেই তদন্ত পরিচালিত হয় এবং অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এক হাজার টাকা প্রদান করতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগের ধরন অনুযায়ী এই টাকার পরিমাণ আরও বাড়ে বলেও জানা গেছে। গোপন অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ওসি তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অবৈধভাবে ঘুষ আদায় করেন। একইভাবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রেও প্রতি মাসে প্রায় এক লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তথ্য রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের তেলিগান্দিয়া গ্রামের একটি নির্জন এলাকায় মদ, জুয়া, নারী ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ‘জুয়া মাস্টার বাবু’ নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে ওসি নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে অর্থ গ্রহণ করেন, যার পরিমাণ মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
এছাড়াও, এই জুয়া চক্রের সঙ্গে তারাগুনিয়ার নাজমুল মোল্লা নামে এক রাজনৈতিক নেতার সংশ্লিষ্টতার তথ্য অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, দৌলতপুর থানা এলাকায় তামাকের বিভিন্ন ডিপো থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা ও তার ছেলের মাধ্যমে এসব অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গেছে। দৌলতপুর থানার সামনের মসজিদ মার্কেট সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, মার্কেট নির্মাণের সময় দোকান বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এক ব্যক্তির কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা গ্রহণ করেও তাকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে ওই অর্থের মধ্যে আংশিক ফেরত দেওয়া হয়। এছাড়া দৌলতপুর থানা চত্বরে জেলা পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) সদস্যদের সঙ্গেও অসদাচরণ এবং তাদের কার্যক্রমে অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমানের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে ওসি নিজেকে দৌলতপুর থানার সব থেকে বড় চোর বলে দাবি করেছেন। যদিও অডিও ক্লিপের ঐ ভুক্তভোগী নাম বা পরিচয় এখনও জানা যায় নাই। তবে ধারণা করা হচ্ছে ঐ ভুক্তভোগী ওসি আরিফুর রহমানকে কোন একটি কাজের জন্য অর্থ দিয়েছেলন।
কাজ না হওয়ার তিনি ওসির কাছে টাকা ফেরৎ চাইলে ওসি আরিফুর রহমান ঐ ভুক্তভোগীকে টাকা ফেরৎ দেবার আশ্বাস দেন। যা অপর একটি অডিও ক্লিপ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাই দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান তা অস্বীকার করে বলেন, আমি আপনার সাথে এই বিষয়ে রাত্রে কথা বললো।
