বিশেষ প্রতিনিধি ॥ শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ জয়তু প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, দেশ মাতৃকা ও বিশ্ব জননীয় সকল সন্তানের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় কুষ্টিয়ায় মহাপ্রভূর ভোগ মহোৎসব, নীলা কীর্তন ও ভোগরাগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়া পৌর ১৫ নং ওয়ার্ডে জুগিয়া দাসপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির প্রাঙ্গনে গড়াই নদীর কূলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপি সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে ধানের শীষের কান্ডারি প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। এতে সভাপতিত্ব করেন পৌর ১৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আল মামুনুর ইমতিয়াজ তারিক, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মজনু। সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন, জুগিয়া দাসপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাধন কুমার দাশ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রুিষ্টান কল্যান ফ্রন্ট পৌর কমিটির সদস্য সচিব ও শহর শ্রমিক দলের আহবায়ক সঞ্জয় দত্ত।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক আরিফুর রহমান সুমন, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান জনিসহ দলীয় অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি, হিন্দু সম্প্রদায়ের সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় প্রধান অতিথি প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আপনারা যে, যে ধর্মেরই হোন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমাদের সনাতনী ভাই বোনদের কখনো সংখ্যালঘু ভাবিনা। আমরা মনে করি, আমরা যেমন দেশের নাগরিক, তেমনিভাবে আপনারাও এ দেশের নাগরিক। আমরা যেমন স্বাধীনতা ও অধিকার ভোগ করি, তেমনি আমাদের সনাতনী ভাই, বন্ধুরা, আপনারাও স্বাধীনতা ভোগ করবেন। আমরা কখনো চাইনা সনাতন ধর্ম আর আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ থাক।
ধর্ম যার উৎসব সবার। সকল সুবিধা অসুবিধায় আমরা আপনাদের পাশে থাকবো। আপনারা ইতিমধ্যে এই এলাকার রাস্তার উন্নয়ন, চলাচলে সুবিধা অসুবিধার কথা বলেছেন। আপনারা জানেন, কুষ্টিয়া পৌর সভা ২১ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত যা বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম পৌরসভা। কিন্তু বিগত ২১ বছরে এই বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম পৌরসভার উল্লেখ্যযোগ্য কোন উন্নয়ন হয়নি। তিনি আরো বলেন, এই পৌরসভার যে পৌর পিতা ছিলেন, সে নিজেই ছিলেন একজন অথর্ব লোক। তাকে ওঠাতে বসাতে তিনজন লোক লাগতো। যার কারনে কিন্তু কোন উন্নয়ন পরিবর্তন করতে পারেননি।
পৌরসভার যে সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা তা পাননি। আপনারা শুধু পৌরসভার ট্যাক্স দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু ট্যাক্সের বিনিময়ে যেটা পাওয়ার কথা সেটা আপনারা কেউই পাচ্ছেন না। আমরা বলতে চাই, আপনাদের ভোটে, আপনাদের সহযোগিতায় আমরা তথা বিএনপি দেশ পরিচালনা করার সুযোগ পাই, তাহলে নাগরিক সুযোগ সুবিধা আপনাদের নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ। প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে ইতিমধ্যে দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
আগামী দিনে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এই দফাগুলো বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে দেশের মানুষ সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। আপনাদের রাস্তাঘাটের সকল সমস্যা সমাধান হবে। এই এলাকায় মহাশ্মশানের উন্নয়ন হবে। এছাড়া মন্দিরের উন্নয়নে যে দাবি তার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপনারা মনে রাখবেন, আমরা সাম্প্রদায়িক সম্পৃতিতে বিশ্বাস করি, আমরা সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। তাই সকলে মিলেমিশে দেশটাকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষে ভোট দিবেন। কুষ্টিয়ার উন্নয়নে আমাদের উপর আস্থা রাখেন, আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থনে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরতে চাই। কুষ্টিয়ার সকল সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নে আমি আপনাদের পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।
