দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় বিষধর সাপের কামড়ে সিয়াম হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে ঝাড়ফুঁকের জন্য এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হয় বলে জানা গেছে। নিহত সিয়াম হোসেন উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশিধরপুর ডিপপাড়া এলাকার রিফাত হোসেনের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে নিজ বাড়ির শোবার ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সিয়ামকে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়।
পরে স্বজনরা তাকে মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ গোড়েরপাড়া এলাকার ওঝা মজিবর রহমানের কাছে নিয়ে যান। সেখানে ঝাড়ফুঁক করার পর ওঝা বিষ নেমে গেছে বলে আশ্বস্ত করলে তাকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সিয়ামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় নিজ গ্রামের বাড়িতে সিয়ামের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সামছুল আরেফিন সুলভ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই কিশোরটির শরীরে বিষের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল। দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানোই জীবন রক্ষার একমাত্র কার্যকর উপায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাপের কামড়ের ঘটনায় এখনো অনেক মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করে ওঝার শরণাপন্ন হন। ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।









