কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার উত্তর কয়া গ্রামের এক হতভাগ্য পিতা সামছুদ্দীন। তার ছেলে জাফর ইকবালকে ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর গভীর রাতে ‘পুলিশ’ পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ প্রায় ১১টি বছর। কিন্তু আজও নিখোঁজ জাফর ইকবালের কোনো সন্ধান পায়নি তার পরিবার। প্রিয় সন্তান ফিরে আসবে—এই বুকভরা আশা নিয়ে আজও চোখের জল ফেলছেন তার অসহায় স্বজনরা।
ভয়াল সেই রাতের ঘটনা:
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে একদল লোক তাদের বসতবাড়িতে হানা দেয়। তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (পুলিশ) সদস্য বলে পরিচয় দেয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জাফর ইকবালকে জোরপূর্বক বসতঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়।
অভিযোগের তীর যাদের দিকে:
পরিবারের দাবি, এই তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি পিকলু সরাসরি জড়িত ছিল। নিখোঁজ জাফর ইকবালের স্বজনরা আরও গুরুতর অভিযোগ করে জানান, ঘটনার রাতে জাফরকে যখন তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সেখানে কুমারখালী থানার তৎকালীন পুলিশ সদস্য রাজিব এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী পিকলুসহ আরও বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিল। তাদের সামনে দিয়েই জাফরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ন্যায়বিচারের আকুতি:
ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন জাফর ইকবালের অসহায় পিতা-মাতাসহ পরিবারের সদস্যরা। থানা, প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে বারবার ধর্না দিয়েও কোনো লাভ হয়নি; কেউই জাফরের কোনো খোঁজ দিতে পারেনি বা এ বিষয়ে কোনো আইনি সহায়তা করেনি। প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়ে কেবলই হতাশা আর শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।
এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও পরিবারের সদস্যদের কান্না আজও থামেনি। নিখোঁজ জাফর ইকবাল বেঁচে আছেন নাকি তাকে গুম করা হয়েছে—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তারা। হারানো জাফর ইকবালকে দ্রুত খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি ও আকুল আকুতি জানিয়েছেন তার অসহায় পরিবার।









