খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুন ২০২৬, ৩:১০ এএম

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া কর অঞ্চল কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় অভিনব কৌশলে জালিয়াতির অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে অংশগ্রহণের অভিযোগে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে মৌখিক পরীক্ষা চলাকালে তাদের শনাক্ত করা হয়। পরে রাতেই তাদের কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কর অঞ্চল কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে মৌখিক পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর আচরণ ও গতিবিধি পরীক্ষক বোর্ডের সদস্যদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়।
এরপর তাদের আলাদা কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের হাতের লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত ব্যক্তিদের হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে লিখিত পরীক্ষার খাতার লেখার সঙ্গে বর্তমান পরীক্ষার্থীদের লেখার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অমিল ধরা পড়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে অংশ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের কর কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, মৌখিক পরীক্ষার সময় সন্দেহজনক আচরণের কারণে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে লিখিত পরীক্ষার খাতার লেখার সঙ্গে তাদের হাতের লেখা মিলিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এভাবে চারজনকে শনাক্ত করা হয়। তারা প্রক্সির মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। এদিকে, সংশ্লিষ্ট একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে পরীক্ষায় অন্য ব্যক্তিকে অংশগ্রহণ করানোর একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে পারে। আটক চারজনের জিজ্ঞাসাবাদে সেই চক্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনার নেপথ্যে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা দালাল চক্রের সদস্যদের শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন জালিয়াতির ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে পরীক্ষার নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রক্সি চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতেও নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য