খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ১:৪০ এএম

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এমবিবিএস চিকিৎসক, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও প্রশিক্ষিত নার্স ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে পাকুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস ধরা পড়ে এবং অস্ত্রোপচার করা হয়। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী জান্নাত আরা খাতুন দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম ও সুক্তারা খাতুন দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই পেটব্যথা নিয়ে জান্নাত আরাকে মহিষকুন্ডি এলাকার তানিম প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তার পেটে পাথর রয়েছে এবং কয়েকদিন ওষুধ সেবন করলেই সে সুস্থ হয়ে যাবে।
এরপর কয়েকদিন ওই হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলতে থাকে। তবে অবস্থার উন্নতি না হয়ে একপর্যায়ে আরও অবনতি ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা জান্নাত আরাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত করেন। পরিবারের দাবি, চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ায় অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যায়। পরে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হলেও এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয় জান্নাত আরা।
জান্নাতের মা সুক্তারা খাতুন বলেন, “মেয়েকে পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। সেখানে বলা হয়েছিল পেটে পাথর হয়েছে। কিন্তু পরে কুষ্টিয়া হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে। মেয়ের অবস্থা এখনো ভালো নয়।” জান্নাতের বাবা আরিফুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর মেয়ের অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়।
এ ঘটনায় আমি দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।” স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজ উদ্দিন মাস্টার বলেন, “হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবল আছে কি না, বিষয়টি তদন্ত করা দরকার। মানুষের জীবন নিয়ে যেন কোনো প্রতিষ্ঠান অবহেলা করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন।” আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ইস্রাফিল হোসেন বলেন, “এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে যেন প্রতারণা না হয়। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তানিম প্রাইভেট হাসপাতালের পরিচালক তরিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ সঠিক নয়।” এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি আমরা দেখছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, তানিম প্রাইভেট হাসপাতালে এমবিবিএস চিকিৎসক, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও প্রশিক্ষিত নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবা, লাইসেন্স ও অনুমোদনসহ অন্যান্য বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা আরিফুল ইসলাম দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার মান, প্রয়োজনীয় জনবল ও অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য