খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই মার্চ ২০২৩, ৫:১৯ পিএম

টিসিবির কার্ডে স্বাক্ষর করে পণ্য না দিয়ে ফেরৎ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে বটতৈল ইউপির ৩ নং ওয়ার্ডের টিসিবির পণ্য বিক্রির দায়িত্বে থাকা ডিলার ও গ্রাম পুলিশ দিদারের বিরুদ্ধে।

টিসিবির পণ্য বিক্রির দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত ডিলার এবং দিদার ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার টিসিবির কার্ডধারী গ্রাহকদের কার্ড জমা নিয়ে পণ্য না দিয়ে শুধুমাত্র স্বাক্ষর করে কার্ড ফেরত দিয়েছেন।কার্ড স্বাক্ষর হয়ে গেলে দিদার শুরু করে চরম দুর্ব্যবহার।ভুক্তভোগীরা তার দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে পণ্য না নিয়ে বাধ্য হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যায় ।
এসব অভিযোগের সত্যতা মেলে ভুক্তভোগীদের নামে ইস্যুকৃত টিসিবির কার্ডে। ভুক্তভোগীদের টিসিবির কার্ডগুলোতে দেখা যায়, ০২ আগস্ট ২০২২ , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৪ নভেম্বর ২০২২, ১০ নভেম্বর ২০২২, ২১ ডিসেম্বর ২০২২ ও ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে স্বাক্ষর করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে পণ্যের নাম ও পরিমাণ উল্লেখ নেই।
জানা যায়, বটতৈল ইউপির ৩ নং ওয়ার্ডের টিসিবির পণ্য বিক্রির দায়িত্বে আছে মেসার্স ডাবলু এন্টারপ্রাইজ। মূলত ডাবলু এন্টারপ্রাইজের স্বতাধিকারী ডাবলু(নাটু)’র নেতৃত্বেই কার্ডে স্বাক্ষর করে পণ্য না দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগীরা।

এব্যাপারে ভুক্তভোগী নাসিমা জানান, “আমরা কেন মাল পাইনি এ বিষয়ে দিদার ভালো জানে। সে বলে তোমার মেম্বার না আলি আমরা মাল দেব না।মেম্বানকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে দিদার সে সময় বলে এটা কি তোমার মেম্বারের বাপের মাল নাকি যে দিতি হবি।”
আরেক ভুক্তভোগী ফাহিমা বলেন, “আমরা মাল আনতে গিয়ে দেখি মালের গাড়ির উপরে দিদার দাঁড়িয়ে আছে। সেসময় আমরা মাল চাইলে দিদার বলে,মেম্বার আসেনি মাল দেবোনা। এই মাল মেম্বারের বাপের না, এই মাল দেবো না। এরপর ঘটনাস্থলে স্থানীয় মেম্বার উপস্থিত হওয়ার পর দিদারের সাথে তার তর্কাতর্কি শুরু হয়। তারপরও দিদার মাল দেয়নি।”
এবিষয়ে বটতৈল ইউপির ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,”ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে দিদার আমাকে বলেছে সেখানে আমার কোনো খাওয়া নেই।ডিসি ইউএনও তাকে পাওয়ার দিয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স ডাবলু এন্টারপ্রাইজের স্বতাধিকারী ডাবলু(নাটু) মুঠোফোনে বলেন,”অভিযোগ আছে আপনারা পেপারে দিয়ে দেন,মানববন্ধন করেন।”
এবিষয়ে বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিন্টু ফকির মুঠোফোনে বলেন,”আমি ছুটিতে আছি। এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই দোষীদের শাস্তি দাবি করি।”
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধন কুমার বিশ্বাস মুঠোফোনে বলেন,”এমন বিষয় আমার জানা নেই। তবে এখন বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য