খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১:৫৭ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই সংসদ সদস্যের নির্বাচনী তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে নিজ দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত চেয়ারম্যান ও সদস্য (মেম্বার) প্রার্থীদের পক্ষে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রার্থীরা গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এসব কর্মসূচির একাধিকটিতে দুই সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থেকে দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে এবং তাদের পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি, তবুও নির্বাচনী আচরণবিধিতে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর কোনো সংসদ সদস্য বা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ব্যক্তি কোনো প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না কিংবা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারেন না।
স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশের দাবি, সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হলে অন্য প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার বলেন, “আইন প্রণেতারাই যদি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আলোচনায় আসেন, তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে নির্বাচনী পরিবেশের প্রতি জনগণের আস্থা অটুট থাকবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি রাতের খাবার খেতে বসেছেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল গফুরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কোনো সংসদ সদস্য বা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ব্যক্তি যদি কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা বা উঠান বৈঠকে অংশ নেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। তাই এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দুই সংসদ সদস্যের এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা ইতোমধ্যে কুষ্টিয়ার নির্বাচনী অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর তাদের ভূমিকা ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কী হবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও ভোটারদের।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য