খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১:৪৭ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় হাম (মিজেলস) পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে মাত্র একজন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ জন। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি, হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। এতে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে।
গতকাল রবিবার (৫ জুলাই) কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘হাম রোগীর সমন্বিত প্রতিবেদন’ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত কোনো নতুন হাম রোগী শনাক্ত হয়নি এবং হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় মোট ২ হাজার ৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন। ফলে বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের আইসোলেশন ও সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ভেড়ামারা, খোকসা, কুমারখালী, মিরপুর ও দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামে মোট ১৩ জনের মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে।
তবে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা মাত্র ৩ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা এখনো শূন্য। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার প্রতিটি উপজেলা ও পৌরসভায় হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন আক্রান্ত শনাক্তে নিয়মিত কাজ করছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ, কোনো শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য