চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৫, ২০২৬

ইবি প্রতিনিধি ॥ আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণী থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে রেখে খেলাধুলামুখী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গতকাল সোমবার (৪ মে) বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ‘অ্যাথলেটিক্স (ছাত্র-ছাত্রী) ও বাস্কেটবল (ছাত্র) প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চাই এবং এর অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে আজকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই খেলাধুলার আয়োজন।

স্কুল ও কলেজে এসব খেলাধুলার আয়োজনের মাধ্যমে আমরা খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। আমরা আমাদের নিজেদের শারীরিক সুস্থতাকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা রয়েছে, তাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে রাখতে চাই। ডিভাইস থেকে দূরে রাখার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে খেলাধুলা।

আমরা প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে হাইস্কুল ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি। যারা খেলাধুলা নিয়ে পড়াশোনা করছেন বা খেলাধুলা ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন, প্রতিটি উপজেলায় বিষয়ভিত্তিক ক্রীড়া অফিসারের অধীনে আমরা বিষয়ভিত্তিক ক্রীড়া শিক্ষকও নিয়োগ দিতে চাই।

খেলাধূলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতার আওতায় এনে পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়া ভাতা প্রদান এবং ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ৩০০ জনকে ক্রীড়া কার্ড দিয়েছি, পর্যায়ক্রমে আমরা ৫০০ জন জাতীয় খেলোয়াড়কে এই ক্রীড়া ভাতার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সিলেট থেকে একযোগে দেশের ৬৪টি জেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র উদ্বোধন করেছেন।

এর আওতায় প্রতিটি জেলা স্টেডিয়ামে আমরা ৮টি ইভেন্ট দিয়ে শুরু করেছি, যেখানে আমাদের অনূর্ধ্ব ১২ থেকে ১৪ বছরের আমাদের কিশোর কিশোরীরা অংশগ্রহণ করছে। পরবর্তী বছরে আমরা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করতে চাই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন এবং ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ। ‎বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। ‎তিন দিনব্যাপী এই আসরে মোট ৩০টি অ্যাথলেটিক্স ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তন্মধ্যে ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত ১৯টি ইভেন্ট হলো— ১০০, ২০০ ও ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট; ৮০০, ১৫০০, ৫০০০ ও ১০,০০০ মিটার দৌড়; বর্শা নিক্ষেপ, গোলক নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, হ্যামার থ্রো, দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফ, লাফ ধাপ ঝাঁপ, পোল ভোল্ট, ১১০ ও ৪০০ মিটার হার্ডেলস এবং ৪ী১০০ ও ৪ী৪০০ রিলে।‎এছাড়া ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১০০, ২০০ ও ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট; ১০০ মিটার হার্ডেলস; বর্শা নিক্ষেপ, গোলক নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, উচ্চ লাফ, দীর্ঘ লাফ এবং ৪ী১০০ ও ৪ী৪০০ রিলে। ‎অ্যাথলেটিক্সের পাশাপাশি ছাত্রদলের বাস্কেটবল প্রতিযোগিতাও সমান্তরালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।