খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুন ২০২৬, ৩:৬ এএম

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে উন্নয়নের কোনো হাওয়া লাগেনি। শুধুমাত্র দুটি সেতুর অভাবে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে আজও চরমভাবে বঞ্চিত। বছরের পর বছর ধরে কেবল আশ্বাস মিললেও বাস্তবে ভাগজোত ও সুকারঘাটে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় চরম অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে এই সীমান্তবর্তী জনপদ। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীবেষ্টিত এই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের মাধ্যম অত্যন্ত মান্ধাতার আমলের। শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটা পথ, কিংবা ঘোড়া ও গরুর গাড়িই তাদের একমাত্র ভরসা। আর বর্ষাকালে পুরো এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়লে নৌকার ওপর নির্ভর করা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না।
যোগাযোগ ব্যবস্থার এই বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় আধুনিকায়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট পেরিয়ে গেলে কেউ আর কথা রাখেন না। যাতায়াত সমস্যার কারণে বর্ষায় প্রায় ছয় মাস এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়, ফলে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মাঝপথেই ঝরে পড়ে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় অনেক শিক্ষক ও চিকিৎসক এখানে চাকরি করতে অনীহা প্রকাশ করেন। সংকটাপন্ন রোগীদের উপজেলা সদর হাসপাতালে নিতে গিয়ে পথেই বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিবহন খরচের শিকার হয়ে ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনের একটি আশার আলো দেখা গেছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের উদ্যোগে।
দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আসাদুল্লাহ বাচ্চু জানিয়েছেন, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত ঘাটে ৩৫০ মিটার এবং চিলমারী ইউনিয়নের সুকারঘাটে ৯৬ মিটার দীর্ঘ দুটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাও আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি সেতু নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার জমা দিয়েছেন।
প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়ে সেতু দুটি নির্মিত হলে সীমান্তবর্তী এই দুই ইউনিয়নের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। তবে যুগ যুগ ধরে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি শুনে আসা চরাঞ্চলের এই লাখো মানুষ এখন আর কোনো মৌখিক আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না; তারা এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই দুই সেতুর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে চান।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য