খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুন ২০২৬, ৩:৩৭ এএম

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ও মরিচা চরাঞ্চলখ্যাত ইউনিয়নে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষসহ রাজনৈতিক অঙ্গনেও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাননাশ, চাঁদাবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রভাব জোরদারের উদ্দেশ্যে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে ফিলিপনগর ইউনিয়নে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দুই ইউনিয়নে সক্রিয় অন্তত ৮টি সন্ত্রাসী বাহিনীর আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বই এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এসব বাহিনীর মধ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঈদের পর সীমান্তপথ দিয়ে দীর্ঘদিন দেশছাড়া ছিলেন সন্ত্রাসী বাহিনীদের একজন সক্রিয় সদস্য, এই সন্ত্রাসী মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলাবারুদ এলাকায় প্রবেশ করেছে, যার ফলে সংঘাত, হুমকি, শক্তি প্রদর্শন এবং প্রাণহানির আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে ও গত ৯ জুন পদ্মার চরে সংঘটিত আজিজুল হক ঝড়ু হত্যা মিশনে এই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ফিলিপনগর ইউনিয়নকে বিবেচনা করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে গত ৩০-সেপ্টেম্বর-২০২৪ দিনের বেলায় ফিলিপনগর ইউনিয়নের পরপর তিন বারের চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুকে হত্যা করে সন্ত্রাসী বাহিনীরা, আর নঈম উদ্দিন সেন্টু সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডে বাঁধা দেওয়ার কারনেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয় জনগন ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল শাখা অবগত।
এলাকাবাসী আরো জানান, অতীতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করলেও অনেক অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এলাকায় ছড়িয়ে থাকা অবৈধ অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করা না হলে এর অপব্যবহার আরও বাড়তে পারে, যা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এদিকে সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অভিযান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এ্যান্ড অপারেশন) জানান, “অবৈধ অস্ত্র ব্যাবহারকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে,সন্ত্রাসী ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারকারী যেই হোক সকলকে আইনের আওতায় আসতে হবে।যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে অস্ত্র উদ্ধার ও হত্যা মামলা রয়েছে এবং জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়েছে, তাদের বিষয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য