সবুজ আলী, খোকসা ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মক্কা-মদিনা ফিলিং স্টেশনের সামনে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলমান রয়েছে। বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি থাকার পরও নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী সাঈদ হাসান ও আকমল হোসেনসহ অন্যরা জানান, প্রায় ৬ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন হারুনুর রশিদ। তারা দাবি করেন, বিষয়টি আদালতে গড়ালে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে তারা থানায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন। আকমল হোসেন বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতে মামলা করার পর ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। তারপরও তারা তা ভঙ্গ করে কাজ করছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।” সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমিতে বালি ভরাটের কাজ চলছে এবং পূর্ব কোণে মিস্ত্রীরা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারুনুর রশিদের ছোট ভাই রাকিব হাসান। তিনি বলেন, “অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনটি দাগে আমাদের জমি সঠিকভাবেই রয়েছে।
যে জমি নিয়ে মামলা চলমান, তা বাদ দিয়েই আমরা আমাদের নিজস্ব জমিতে কাজ করছি। তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং কাগজপত্রও সঠিক নয়।” এ বিষয়ে খোকসা থানার এসআই রাজুর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, “দুপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। বাদী পক্ষের কাছে পুরাতন একটি ১৪৪ ধারার কাগজ রয়েছে এবং নতুন করে আরও একটি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছি। রবি বা সোমবার দুপক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, “১৪৪ ধারার কাগজে কিছু ত্রুটি থাকায় কাজ শুরু করা হয়েছিল। তবে আপাতত হারুনুর রশিদ পক্ষকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” উল্লেখ্য, বিরোধপূর্ণ জমিটি কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানার অন্তর্গত খোকসা মৌজায় অবস্থিত (আরএস খতিয়ান নং-৪৪৮, আরএস দাগ নং-১৩৬১)।
