বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় পৃথক স্থানে তিন সরকারি দপ্তর বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃক্ষ রোপণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে কালেক্টরেট চত্বরে বৃক্ষ রোপণের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান।
এতে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির মেম্বর ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার), স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল ওয়াদুদ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, কুষ্টিয়া জজ কোর্টের বিজ্ঞ পিপি অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হারুন অর রশীদ, দি কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক ফুহাদ রেজা ফাহিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক যুব নেতা জব্বার মিলন, সদর উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক খন্দকার মোমিনুল ইসলাম কাজিমসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বন ও কৃষি বিভাগের প্রতিনিধিগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থানীয় সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মীবৃন্দ অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। এছাড়া দুপুর ১টার দিকে গড়াই নদীর তীরে রবীন্দ্র লালন উদ্যানে জেলা পরিষদের আয়োজনে বৃক্ষ রোপণ করা হয়। সেখানে বৃক্ষ রোপণের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। কালেক্টরেট চত্বরে বৃক্ষ রোপণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে দূরদর্শী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, আমাদের এই ১০ হাজার গাছ লাগানোর কর্মসূচি সেই বৃহৎ জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি অংশ হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, একটি গাছ যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু গাছ লাগানোই নয়, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে কুষ্টিয়া ডিসি পার্ককে একটি পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ রক্ষায় আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছেন। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় খাস জমি, সড়ক-মহাসড়কের পাশে, নদীর পাড়ে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ করা হবে। তারই পরিপেক্ষিতে গড়াই নদীর তীরে কুষ্টিয়া রবীন্দ্র লালন উদ্যানে বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া কালেক্টরেট চত্বরেও এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সবাইকে একটি করে গাছ লাগানোর নির্দেশনা দিয়ে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনএই কর্মসূচিটি বিএনপি’র ৩১-দফা পরিকল্পনার অংশ, যার মধ্যে ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ বা জাতীয় সবুজ মিশনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় বড় উদ্যোগ নেয়ার কথা রয়েছে। আমরা কুষ্টিয়াকে একটি পরিচ্ছন্ন সবুজায়ান নগরী গড়ে তুলতে চাই।
কুষ্টিয়ার সামাজিক সংগঠন ক্লিন কুষ্টিয়া গ্রিন কুষ্টিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। দেশের পাশাপাশি কুষ্টিয়াকে একটি সবুজ নগরী গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা ইতিমধ্যে দেখেছেন কুষ্টিয়ার সামাজিক সংগঠন ক্লিন কুষ্টিয়া গ্রিন কুষ্টিয়ার উদ্যোগে নগরীকে সবুজায়ন করতে শহরের আইল্যান্ডে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।
এছাড়া শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিনিয়ত এ সংগঠনের সদস্যরা নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন। নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করা হয়। শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন সবুজায়ন বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমায় এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই আজ আমরা যে চারা রোপণ করছি, তা শুধু একটি গাছ নয়, এটি ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার প্রতীক। আমি সকল নাগরিক, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানাই, প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগান এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিন। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোকে বড় করে তুলতে হবে। আসুন, আমরা দল-মত নির্বিশেষে সবুজ, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গঠনে একযোগে কাজ করি।
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও জেলা পরিষদের বৃক্ষ রোপণ উদ্যোগকে স্থানীয়রা প্রশংসা করেন। শহরের স্থানীয় বাসিন্দা যুব নেতা জব্বার মিলন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তাপমাত্রা কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে বেশি বেশি গাছ লাগানো প্রয়োজন। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে গাছ লাগাতে হবে। আমাদের দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ, এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সারা দেশে বৃক্ষ রোপণ করা হলে সুন্দর একটি দেশ গড়ে উঠবে। গাছ পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেশি গাছ লাগানো হলে আমাদের এলাকা আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হবে।









