কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক 

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ

 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ফের চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল, ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন এবং গ্রামাঞ্চলের বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। গত কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, যাত্রীবাহী পরিবহন, মাছ ও মুরগিবাহী গাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

দৌলতপুর একটি বৃহৎ ও জনবহুল উপজেলা। অসংখ্য গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। কৃষিকাজের পাশাপাশি অনেক পরিবার গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বাড়তে থাকায় এসব পরিবারের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তার কারণে অনেক পরিবার গৃহপালিত পশু বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময়ে দৌলতপুরেও চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসে। একসময় সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত এই উপজেলায় পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা হয়।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সন্ধ্যার পরও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষদিকে আবারও একাধিক চুরি-ডাকাতির ঘটনা সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ফিলিপনগর লালদহর মাঠে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতি, মথুরাপুর-হাসেনাবাদ সড়কের মাঠ এলাকায় ফাতেমা পরিবহনে ডাকাতি, কল্যাণপুর এলাকায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতি, ধর্মদহ ব্যাঙগাড়ির মোড়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে গাছে বেঁধে ডাকাতি এবং কাতলামারী-বালিয়াডাঙ্গা মাঠে মুরগিবাহী গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন বাড়ি ও স্থানে আরও কয়েকটি চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

 

একাধিক সচেতন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব ঘটনার পর অনেক ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করতেও অনীহা প্রকাশ করছেন। তাদের দাবি, অভিযোগ করার পর অপরাধীদের পক্ষ থেকে পুনরায় হামলা, মারধর বা হয়রানির আশঙ্কায় অনেকে আইনি সহায়তা নিতে চান না। 

 

এদিকে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান মন্টি সরকার গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার ফেসবুক পোস্টে উপজেলায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার দাবি করেন। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, দিনে-রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে মামলা হচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতেও অনাগ্রহী—এমন কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

 

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও গণমাধ্যমে জানিয়েছেন। তার ছেলে আসিফ রেজা শিশির ও ভাগ্নে খশরু নোমানও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপই মূল বিষয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

 

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান বলেন, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে। কোনো ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নাকি এর পেছনে সংঘবদ্ধ কোনো চক্র সক্রিয় রয়েছে—তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও গ্রামীণ এলাকায় টহল জোরদার, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

দৌলতপুরবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে চুরি-ডাকাতিসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষ আবারও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর