ইসিজি টেকনিশিয়ান থেকে ওয়ার্ড মাস্টার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ইসিজি টেকনিশিয়ান থেকে ওয়ার্ড মাস্টার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৭, ২০২৬

টাকা না দিলে রোস্টারে নাম নয়

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ডিউটি রোস্টারকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মাস্টার রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ডেপুটি ডিরেক্টরের (ডিডি) প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদের কাছ থেকে মাসে চার লাখ টাকারও বেশি আদায় করছেন। হাসপাতালে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করা অনেক কর্মী যেখানে দুবেলা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খান, সেখানে তাদের কাছ থেকেই জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

কাজ টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েই অনেকেই এই অর্থ পরিশোধ করছেন। অভিযোগকারীরা জানান, প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবীর কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে ডিউটি রোস্টারে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সূত্র জানায়, রাজু আহমেদ আগে একই হাসপাতালে ইসিজি টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সম্প্রতি নতুন ডেপুটি ডিরেক্টর যোগদানের পর তিনি হঠাৎ করেই ওয়ার্ড মাস্টারের দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার প্রভাব বেড়ে যায়। একাধিক স্বেচ্ছাসেবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রোস্টারে নাম তুলতে হলে রাজুর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয় এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয়। টাকা দিলে দ্রুত নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে বাদ দেওয়া হয়।

তাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেই রাজু ডিডির নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখান। তার ভাষায়, “আমার বিরুদ্ধে গেলে হাসপাতালে টিকতে পারবা না।” ফলে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।  হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন ওয়ার্ডে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রোগীর চাপ সামাল দিতে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও রোস্টার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সেবার মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজু আহমেদের হাসপাতালের ভেতরে অবাধ বিচরণ রয়েছে এবং তিনি ডেপুটি ডিরেক্টরের ছত্রছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া হাসপাতাল কোয়ার্টার এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এতে হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রাজু আহমেদ। তিনি বলেন, “রোস্টার তত্ত্বাবধায়ক স্যারের অফিস থেকে করা হয়। আমি শুধু নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করি। আমার হাতে রোস্টার নেই, তাই কাউকে অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার সুযোগও নেই। টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. আবদুল মান্নান বলেন, “আমার নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, সাধারণত মেডিকেল অফিসাররাই রোস্টার তৈরি করেন। তবে এবার ডেপুটি ডিরেক্টর ও ওয়ার্ড মাস্টার যৌথভাবে রোস্টার প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেন, “রোস্টারে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে টাকা নেওয়ার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি ডিডি স্যার দেখছেন।” এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।