কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে পৈশাচিক কায়দায় বলাৎকারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ৫৫ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই ন্যক্কারজনক অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা। বর্তমানে শিশুটি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
Table of Contents
Toggleঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিবরণ
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মন্টু মালিথা (৫৫), যিনি দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলা বাজারপাড়া গ্রামের মৃত আতর মালিথার ছেলে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাদিপুর বেগুনবাড়ীয়া গ্রামের কিপুল হোসেনের ছেলে। তবে গত তিন মাস ধরে সে মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলা বাজারপাড়া গ্রামে তার নানা দিরাজ দফাদারের বাড়িতে অবস্থান করছিল।
অভিযুক্ত মন্টু মালিথার বাড়ি নানার বাড়ির পাশেই হওয়ায় তিনি শিশুটির সঙ্গে বিভিন্ন সময় কথা বলতেন এবং মাঝেমাধ্যে বিস্কুট কিনে লোভ দেখাতেন। গত ৪ মে (শনিবার) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটি নানার বাড়ির সামনে খেলাধুলা করার সময় মন্টু মালিথা তাকে ফুসলিয়ে হাটখোলাপাড়া মাঠের ভেতরের ঘাসের জমিতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার কিছুক্ষণ পর শিশুটি চিৎকার করতে করতে মাঠ থেকে বাড়ির দিকে ছুটে আসে এবং প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
চিকিৎসা ও আইনগত পদক্ষেপ
ঘটনার পর গত ৬ মে (সোমবার) শিশুটিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে শিশুটি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটির মা মিন্নিকা আক্তার বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্য
মরিচা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য মনোয়ারা খাতুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ১১ বছরের এক শিশুকে ৫৫ বছর বয়স্ক মন্টু মালিথা বলাৎকার করেছে—এমন সংবাদের কথা তিনি শুনেছেন। এমনকি অভিযুক্ত মন্টু মালিথার বিরুদ্ধে এর আগেও এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস রয়েছে বলে লোকমুখে প্রচলিত আছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অপরাধ আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য অভিযুক্তকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান এই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
পুলিশের বক্তব্য ও অবস্থান
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির মা এসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, শিশুটি ও তার মা থানায় এসেছিলেন এবং তিনি নিজে শিশুটির সঙ্গে কথা বলেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, শিশুটি সরাসরি বলাৎকারের কথা বলেনি, কেবল তার জামাকাপড় খোলার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।









