কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

জামাই ও মেয়ের শাশুড়িকে মারধর করলেন মেয়ের বাবা মুকুল, থানায় অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসার জন্য রাখা এক লাখ টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে জামাই ও তার মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর নুরুজ্জামান মুকুল ও তার মেয়ে মিতুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. রকিবুল ইসলাম রিপন কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের কুমারগাড়া পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মো. রকিবুল ইসলাম রিপনের সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে মিতুর বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। সংসারজীবনে বিভিন্ন সময় পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলেও আলোচনা করে তা মীমাংসা করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তারা। প্রায় এক বছর তিন মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। পরে দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে তারা আবারও সংসারে ফিরে আসেন।

 

রিপনের অভিযোগ, সংসারে ফেরার পরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রী মিতুর সঙ্গে তার প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হতো। বিশেষ করে মিতুর বাবার বাড়ির প্রতি অতিরিক্ত টান এবং সন্তানদের দেখাশোনা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে রিপন আলাদা সংসারে বসবাস করতেন।

 

অভিযোগে রিপন বলেন, তার এক সন্তান প্রতিবন্ধী। ওই সন্তানের চিকিৎসার জন্য তার মা তাকে এক লাখ টাকা দেন। তিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়িতে রাখেন। পরে তার স্ত্রী মিতু ওই টাকা নিয়ে তার বাবাকে ডেকে এনে দিয়ে দেন। প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা কেন তার বাবাকে দেওয়া হলো—এ নিয়ে স্ত্রী মিতুর সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়।

 

রিপনের দাবি, এসব বিষয় নিয়ে মিতু তার বাবার কাছে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করতেন। এর আগেও পারিবারিক বিরোধের জেরে তার শ্বশুর মুকুল তাকে মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট সকালে প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসার জন্য রাখা এক লাখ টাকা মিতু তার বাবাকে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিতু তার বাবার বাড়িতে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে তার বাবা নুরুজ্জামান মুকুল ও কয়েকজন সহযোগী রিপনের বাড়িতে আসেন।

 

রিপনের অভিযোগ, বাড়িতে এসে মুকুল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে মুকুল তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে তার মা রোকেয়া খাতুন এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।

 

রিপন অভিযোগ করেন, তার মা রোকেয়া খাতুনকে মুকুল ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। পরে তাকে লাথি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার মা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে মুকুল ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা রিপন ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নুরুজ্জামান মুকুল আওয়ামী লীগ আমলে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হান্নানের চাচাতো ভাই হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তাদের দাবি, ওই সময় মুকুল ও তার ভাই-ব্রাদারদের প্রভাবের কারণে এলাকায় অনেকেই কথা বলতে সাহস পেতেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই প্রভাব কাজে লাগিয়ে মুকুল এর আগেও বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের ঘটনায় জড়িয়েছেন।

 

স্থানীয়রা আরও জানান, মুকুলের দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মিতুর সঙ্গে রকিবুল ইসলাম রিপনের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ের এর আগে দুইবার বিয়ে হলেও দুই জায়গাতেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতে রয়েছেন।

 

রিপনের দাবি, ঘটনার পর তার স্ত্রী মিতু দুই সন্তানকে রেখে বাবার সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নুরুজ্জামান মুকুল ও মিতুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর