কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পড়া ধরার অজুহাতে ছাত্রীদের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ!

কয়া চাইল্ড হেভেন স্কুলে তোলপাড়

 

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া চাইল্ড হেভেন গার্লস স্কুলের বাংলা শিক্ষক আখের উদ্দিনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ ও অস্বস্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও দীর্ঘদিনেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

 

পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের জানালে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষক বিষয়টি শিক্ষা অফিসারকে মুঠোফোনে অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বাংলা শিক্ষক আখের উদ্দিন ক্লাসে পড়া ধরার সময় বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের কাছে যান। এ সময় পিঠে বা মাথায় হাত দেওয়া, বেঞ্চে এসে ছাত্রীদের পাশে বসা এবং গা ঘেঁষে বসার মতো আচরণ করেন বলে অভিযোগ তাদের।

 

এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, শিক্ষক ক্লাসে এসে পড়া ধরার সময় অনেকের পিঠে হাত দেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। কখনো কোনো ছাত্রীকে দাঁড় করিয়ে রেখেও গায়ে হাত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব আচরণে অনেক শিক্ষার্থী অস্বস্তি বোধ করেন বলেও দাবি তার।

 

আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষক কখনো কখনো ছাত্রীদের সঙ্গে এমন কথাবার্তা বলেন, যা তাদের কাছে অস্বস্তিকর ও আপত্তিকর মনে হয়। এ কারণে তার ক্লাসে অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি বা দুটি শ্রেণিতে নয়, বিভিন্ন শ্রেণির একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের আচরণের অভিযোগ রয়েছে। বড় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিষয়টি একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সালেহ জানিয়েছেন, বাংলা শিক্ষক আখের উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও ২০২৪ সালে একই ধরনের অভিযোগ এসেছিল। তখন শিক্ষকরা মিটিং করে তাকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ করবেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।

 

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, এবার আবার অভিযোগ আসায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিভাবকরা গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে এসে অভিযোগ করার পর তিনি বিষয়টি শিক্ষা অফিসারকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন। পরবর্তীতে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হবে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর কয়েকজন অভিভাবক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। তারা অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তির পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

অভিভাবকদের কয়েকজনের ভাষ্য, অভিযোগ সত্য কি না তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ভয়, চাপ বা মানসিক অস্বস্তির মধ্যে না থাকে, সে বিষয়েও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, আখের উদ্দিন এর আগে অন্য একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। সেখানেও ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছিল বলে তিনি দাবি করেন।

 

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলা শিক্ষক আখের উদ্দিন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সবগুলোই মিথ্যা। আমি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছি। একটি কুচক্রী মহল ছাত্রীদের উসকানি দিয়ে এ ধরনের কাজ করছে। তার দাবি, তিনি কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেননি।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুমারখালী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. নাজমুল হককে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর