কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিপর্যস্ত

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সাম্প্রতিক তীব্র তাপদাহের মাঝে কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে চরম আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। কাগজে-কলমে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ভাগ করা থাকলেও বাস্তবে জেলাটিতে তা মোটেও কার্যকর হচ্ছে না। বিদ্যুৎ থাকার চেয়ে লোডশেডিংয়ের স্থায়িত্বই বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলাতেই এখন একই চিত্র। এই নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, অন্যদিকে দেশের বৃহত্তম চালকল জোন খাজানগরের অটো রাইস মিলসহ স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামার উপক্রম হয়েছে।

সময়সূচির বালাই নেই, দিন-রাত চলছে দফায় দফায় লোডশেডিং কুষ্টিয়া শহরের এবং গ্রামীণ সব এলাকাতেই এখন গ্রাহকদের প্রধান ক্ষোভ লোডশেডিংয়ের অনিয়ম নিয়ে। জেলা শহরের ভেড়ামারা এলাকার বাসিন্দা আরিফুল রোববারের লোডশেডিংয়ের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জানান, দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়, আসে ১ ঘণ্টা পর। এরপর বিকেল ৩টার দিকে আবার গিয়ে দুই ঘণ্টা পর আসে। সন্ধ্যা ৭টায় গিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য লোডশেডিং হয়। এরপর রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না এবং গভীর রাত ২টার দিকে আবার বিদ্যুৎ চলে যায়।

তিনি আরও জানান, প্রায় প্রতিদিনই সকাল সাড়ে ৯টায় বিদ্যুৎ গিয়ে ৯টা ৫০ মিনিটে আসে। অনুরূপ অভিজ্ঞতার কথা জানান কুষ্টিয়া সদরের বাসিন্দা বাবলু ও চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম। রেজাউল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিয়ম তৈরির শুরুতেই গলদ দেখা দিয়েছে। যখনই বিদ্যুৎ আসে, প্রতিবার মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট থেকে আবার চলে যায়। এই অবস্থা কুষ্টিয়ার সব এলাকার। এলাকাভিত্তিক ঘোষিত সময়সূচির বাইরেও অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন ও রাতের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়াবাসীর। খাজানগর বিদ্যুতের এই ভয়াবহ সংকটে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশের বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে। এখানকার অটো রাইস মিল মালিকরা চরম শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে মিলে পুরোদমে ধান ভাঙানোর কাজ চলছে।

চাল তৈরির প্রক্রিয়ায় একবারে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মণ থেকে ২হাজার ৫০০ মণ ধান সেদ্ধ করতে হয়। এই সেদ্ধ করার জটিল প্রক্রিয়ার সময় হুট করে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো ধানের মান নষ্ট হয়ে যায় এবং চাল ভেঙে খুদ হয়ে যায়। ক্ষতি এড়াতে মিলগুলোতে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বর্তমান বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে জেনারেটর চালাতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় আকাশচুম্বী হচ্ছে। জেনারেটরের অতিরিক্ত খরচের কারণে ব্যবসার ভবিষ্যৎ ও উৎপাদন ব্যয় কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছেন চালকল ব্যবসায়ীরা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও আবাসিক জীবনে স্থবিরতা শুধু বড় শিল্পই নয়, শহরের কাটাইখানা মোড় এলাকার টেলিকম ও ফটোস্ট্যাট ব্যবসায়ীরাও বিদ্যুতের অভাবে নাজেহাল। ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল থেকে অসংখ্যবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করার কারণে কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট মেশিন চালানো যাচ্ছে না।

ফলে প্রতিদিন প্রচুর কাস্টমারকে সেবা না দিয়ে ফেরত পাঠাতে হচ্ছে। এতে করে দৈনিক উপার্জনে বড় ধস নেমেছে। কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. ইসমাত কামাল জানান, তাদের ৬টি উপজেলায় মোট গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ ৬ হাজার। বর্তমানে তাদের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮৫ মেগাওয়াট এবং গড় চাহিদা ১৬৫ মেগাওয়াট। কিন্তু এর বিপরীতে তারা জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন মাত্র ১১৩ থেকে ১৪০ মেগাওয়াট। এনএলডিসি-এর বরাদ্দের ওপর ভিত্তি করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ও লোডশেডিং সমন্বয় করতে হয় বলে জানান তিনি।

তবে (২৯ জুন) সকাল ৯টা থেকে লোডশেডিং নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া শহর ও শহরতলী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড -এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আমজাদ হোসেন জানান, তাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ৭৩ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে তারা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতির কারণেই প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার বা তার বেশি লোডশেডিং করতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর