বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কুষ্টিয়া জেলা শাখার ব্যানারে একদল নেতা-কর্মী মিছিল করেছে। এছাড়া মিরপুর উপজেলা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ। কুষ্টিয়ার পৃথক দুটি স্থানে বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গতকাল রবিবার (১ নভেম্বর) মিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসলাম আরেফিন তার ব্যবহুত সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।
তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া ০৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ ভাই এবং কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়া শহর আওয়ালীগের সাধারণ সম্পাদক এর বিরুদ্ধে অবৈধ ক্যাঙ্গার কোটের রায়ের প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল।
এদিকে কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়া শহর ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত) সদস্য সচিব সর্দ্দার মোঃ পাভেল তার ব্যবহুত ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়ার কৃতী সন্তান মাহাবুবুল আলম হানিফ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়ের প্রতিবাদে উত্তাল কুষ্টিয়া।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। এব্যাপারে জানতে চেয়ে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি কোন সাড়া দেননি। উক্ত ভিডিওতে ব্যানারে দেখা যায়, মাথা উচু করেই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবে, প্রত্যাবর্ত-২, বিক্ষোভ মিছিল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অবৈধ রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগ। এদিকে মিছিলে অংশ নেওয়া একজন ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত করা যায়।
তিনি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম। এছাড়া মিছিলে অংশ নেওয়া অন্য ব্যক্তিদের মুখে মাস্ক থাকায় পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি। রাতের অন্ধকারে মিছিল থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। এর মধ্যে ‘মিথ্যা মামলার অবৈধ রায় মানি না’ শেখ হাসিনার ভয় নাই’ রাজপথ ছাড়ি নাই, হানিফের ভয় নাই , রাজপথ ছাড়ি নাই, শেখ হাসিনা আসবে’ বাংলাদেশ হাসবেসহ বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে মামলা হলে, কুষ্টিয়ার ছয় হত্যা মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফকে আসামি করা হয়। উক্ত মামলায় সাবেক এমপি হানিফকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। এর প্রতিবাদে এ মিছিল করেন আওয়ামীপন্থী নেতাকর্মীরা। সোস্যাল মিডিয়া সূত্রে পাওয়ায় মিছিলের স্থান, সময় এবং এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানতে মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ভাদালিয়া সেনের চাতাল এলাকায় গভীর রাতে জয় বাংলা শ্লোগানে একটি মিছিল হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বিষয়ে জানতে চেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব এর সাথে মুঠোফোনে (রবিবার ০১ নভেম্বর) কথা হলে, প্রশাসন কতটা কাজ করছে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসন আগের মতোই রয়েছে, আমরা প্রশাসনের কাছে ভালো কিছু পাচ্ছি না। এক সময় আওয়ামী লীগ আমলে আমরা পালিয়ে বেড়িয়েছি, আর আওয়ামী লীগের মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা চাই প্রশাসন নির্বিঘ্নে কাজ করবে। উক্ত মিছিলের বিষয়ে তিনি অবগত নেই জানিয়ে বলেন আমি ঢাকাতে আছি, তবে যারা বিক্ষোভ মিছিল বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অন্যদিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম এক বার্তায় (রবিবার ১ নভেম্বর) বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গণতন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। আওয়ামী লীগের গত ১৭ বছরের শাসনামলে সংঘটিত অন্যায়ের জবাব জনগণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দিয়েছে। একসময় তাঁরা ঘরে থাকতে পারেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা চান প্রশাসন নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করুক এবং যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের বিষয়ে (রবিবার ১ নভেম্বর) কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে সর্বচ্চ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন কাজ করছে এবং প্রতিনিয়ত পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে। তবে যারা এ ধরনের কাজে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









