বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পরিবেশ সুরক্ষা ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলতে কুষ্টিয়ার কলাকাকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুবদের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যুব ফোরাম এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
সেমিনারে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাকাকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাইলা ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), খুলনার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামান লিমন।
তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী প্লাস্টিক দূষণবিষয়ক একটি অংশগ্রহণমূলক সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করেন। সেশনে প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সচেতনতামূলক সেশনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্লাস্টিক দূষণবিষয়ক একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
কুইজে সঠিক উত্তরদাতাদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় যুব ফোরামের কুষ্টিয়া জেলা সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর হোসেন, সংগঠনের সদস্য বৃষ্টি আক্তারসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।বিশেষ অতিথি মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করলেই হবে না; প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় তরুণদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুব ফোরামের উদ্যোগ ও কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। এ ধরনের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে বেলা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মোঃ আসাদুজ্জামান লিমন বলেন, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতার পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায় থেকে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর বাস্তব উদ্যোগ নিতে হবে।আয়োজকরা জানান, যুব ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ সুরক্ষা, সচেতনতা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শিক্ষার্থী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।









