খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ২:৫২ এএম

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের পর গড়াই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন শর্মিলা খাতুন (২৩) নামে এক কলেজছাত্রী। তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এবং শারীরিকভাবে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমারখালী-যদুবয়রা সংযোগ সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শর্মিলা খাতুন কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের আশিকুর রহমানের স্ত্রী। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় শর্মিলাকে সেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি নিজের কলেজ ব্যাগটি সেতুর ওপর রেখে হঠাৎ গড়াই নদীতে ঝাঁপ দেন। মুহূর্তেই নদীর স্রোতে তিনি ভেসে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা তার ফেলে যাওয়া ব্যাগে থাকা কলেজ পরিচয়পত্র থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। একই সময়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা নৌকা নিয়ে গড়াই নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান।
প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর কুমারখালীর মূলগ্রাম এলাকার নদীর কূলসংলগ্ন স্থানে শর্মিলাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তাকে জীবিত উদ্ধার করে দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শর্মিলার দুলাভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর আমরা নদীতে নৌকা নিয়ে খোঁজ শুরু করি। পরে মূলগ্রাম এলাকায় তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে শর্মিলার সঙ্গে তার স্বামী আশিকুর রহমানের পারিবারিক বিরোধ হয়েছিল।
নিখোঁজ অবস্থায় শর্মিলার সন্ধান চলাকালে মুঠোফোনে আশিকুর রহমান জানান, সকালে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে শর্মিলা পরীক্ষা দিতে বের হন। পরীক্ষা শেষে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ফোনে জানতে পারেন, তিনি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। এদিকে, কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, শর্মিলা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার সময় তার স্বামী ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ইসমাইল হোসেন রাকিব বলেন, আমরা কয়েকজন বন্ধু ব্রিজের ওপর ছিলাম। হঠাৎ দেখি একটি মেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরে তার ব্যাগে থাকা পরিচয়পত্র থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং ৯৯৯-এ খবর দিই।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গড়াই নদীতে ঝাঁপ দেওয়া কলেজছাত্রীকে প্রায় তিন ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি জানা গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য