কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে হামলা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কুমারখালী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছে। এজাহারে একাধিক ব্যক্তির পাশাপাশি সাবেক যুবদল নেতা ও কুমারখালী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আতিকুর রহমান সবুজের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তিনি।

এদিকে ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, কুমারখালী উপজেলার মালিয়াটে একটি জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে তাদের জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক পাট কেটে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিতে গেলে তাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

এ সময় ঘরে থাকা আসবাবপত্র নষ্ট করার পাশাপাশি নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা কুমারখালী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক যুবদল নেতা ও কুমারখালী পৌর মেয়র প্রার্থী আতিকুর রহমান সবুজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তার নির্দেশেই অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে আতিকুর রহমান সবুজ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আমার শ্বশুরের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি জানতে এবং পরিস্থিতি দেখতে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

ঘটনার বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, রবিবার বিকেলে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করার কথা রয়েছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা চান। অন্যদিকে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান সবুজ নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে এজাহারে নাম জড়ানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Tags :

মোশাররফ হোসেন - কুমারখালী প্রতিনিধি | কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর