কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের ছয়জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাওতা রাজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—পলাশ উদ্দিন (২৯), কদর উদ্দিন (৫৬), বদর উদ্দিন (৬৫), ফরিদা খাতুন (৫৪), আরসেদ উদ্দিন (৪৪) ও জসিম উদ্দিন (৩৮)।
এ ঘটনায় মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে জসিম উদ্দিন উল্লেখ করেন, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বাদীপক্ষের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, হাতুড়ি, দা, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাড়িতে প্রবেশের পর অভিযুক্তরা গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। এতে বাধা দিলে জসিম উদ্দিনের ভাতিজা পলাশ উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাকে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় জসিম উদ্দিনের বাবা, চাচা, মামাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জসিম উদ্দিনের মা মোছা. জরিনা পারভীনকে কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথা, ঘাড়, পিঠ ও পায়ে আঘাত করার অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় নারীসহ ছয়জন আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় জসিম উদ্দিনের মায়ের গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ির টিনের গেট ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদী জসিম উদ্দিন কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে আমাদের ফোর্স গিয়েছিল। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।তদন্ত-পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









