খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই মে ২০২৬, ১:৪৬ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক সহকারী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আরার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। তবে তদন্ত কার্যক্রমে ধীরগতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ভুক্তভোগী ব্যক্তি জমি খারিজ (নামজারি) সংক্রান্ত কাজে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে ওই কর্মকর্তার কাছে অর্থ ফেরত দাবি করছেন। তিনি বলেন, আমি আপনাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি, আপনি টাকা ফেরত দিন। আমি আর নামজারি করব না।
এ সময় অফিসে উপস্থিত আরেক ব্যক্তি তাকে অন্য অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দিলে জেসমিন আরাকে বলতে শোনা যায়, আমাদের সবার সঙ্গে কথা বলতে হবে, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, টাকা দেওয়ার পরও কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে নামজারির কাজ দীর্ঘসূত্রতায় ফেলা হতো এবং দালালচক্রের মাধ্যমে ফাইল পরিচালনা করা হতো।
স্থানীয়দের দাবি, কয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ চলে আসছে। তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং প্রশাসনের নজরে আসে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন।
তদন্ত শেষে প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত কমিটি গঠনের তারিখ ও তদন্ত শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারিখ দেখে বলতে হবে। আশা করছি ঈদের পর তদন্ত শেষ হবে। এদিকে তদন্তে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভিডিওতে অর্থ লেনদেন ও টাকা ফেরতের বিষয়ে কথোপকথন স্পষ্ট থাকার পরও তদন্তে দেরি রহস্যজনক। কেউ কেউ প্রশাসনের ভেতরে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য