খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই এপ্রিল ২০২৩, ১১:৩৮ পিএম

পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার ঈদ বাজার নিয়ে বিপাকে পড়েছে ক্রেতা সাধারণ। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের পকেট কাটার অভিযোগ উঠেছে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। এতে ঈদের আনন্দ কিছুটা ফিকে হয়ে যাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি বঙ্গবাজারে আগুন এবং করোনাকালে সরকারের বিধি নিষেধের কারণে ৩ বছর ব্যবসা করতে না পারায় এই বাড়তি দামের কারণ। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ব্যবসায় এসে পড়েছে। তাই ঈদ পোশাকের দাম শতকরা ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।
কুষ্টিয়ার শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের চাহিদা মূলত গজ কাপড়, থ্রিপিস ও পাঞ্জাবিতে। এই তিনটির পাশাপাশি শাড়ি, লেহেঙ্গা ও গাউনসহ অন্যান্য পোশাকও বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দেশি-বিদেশি পণ্য। ক্রেতা দেখলেই হাঁকডাক দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। নানা কথা ও অফার দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্টের চেষ্টা করছেন তারা। তবে অভিযোগ উঠেছে পোশাক পছন্দ হলেই ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা।
মার্কেটে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনতে হবে। আমি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। এবারের ঈদ পোশাকে ইচ্ছে মতো দাম ধরছে বিক্রেতারা। যার কারণে পরিবারের সবার জন্য পোশাক কেনা আমার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না।
আরেকজন ক্রেতা কুদরত খান বলেন, বিক্রেতারা বাজারে দামের আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এতে পোশাক কিনতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের স্বল্প আয়। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ, সেখানে পোশাক কেনা বিলাসিতা।
কুষ্টিয়া শহরের কয়েকজন কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, গত বছর ভালো ব্যবসা হয়নি। এবার টুকটাক বেচা কেনা হচ্ছে। মনে হচ্ছে আগামী সপ্তাহ থেকে বিক্রি আরো বাড়বে। এক গজ কাপড়ের মূল্য গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ২৫-৩৫ টাকা। গত বছর যে এক গজ কাপড় বিক্রি করেছি ৫৫ টাকা এবার সেই কাপড় বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়।

তারা আরও বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে একদিকে ডলারের দাম বেড়েছে। এতে করে গত বছরের তুলনায় ডলার প্রতি ২০-২৫ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। সেই সাথে গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ উৎপাদন খরচ বেড়েছে। দোকান ও কর্মচারীদের খরচের পর মুনাফা আসবে। সব কিছু হিসাব করে এবার বেশি দামে পোশাক বিক্রি করতে হচ্ছে।
শহরের এন এস রোডের কাপড় ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ বলেন, করোনা ও সরকারি বিধিনিষেধের কারণে গত ৩ বছর আমাদের লোকসান গুণতে হয়েছে। গত বছর কিছুটা মুনাফার দেখা পেয়েছিলাম। আশা করছি এবার ভালো ব্যবসা করতে পারব।
এব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল বলেন, আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। যদি কোন বিক্রেতা নির্ধারিত মূল্যেও চেয়ে বেশি রেট নেয় তাহলে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মন্তব্য