পুলক সরকার, খোকসা ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় গত বছর পেঁয়াজের দাম ভালো পাওয়ায় এবারও লাভের আশায় পেঁয়াজের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমি। স্থানীয় কৃষকরা পেঁয়াজ আবাদে বেশি ঝুঁকে পড়ার কারণে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকেও ১ হাজার ১১২ হেক্টর জমি বেশি। বর্তমানে পেঁয়াজের জমিতে পরিচর্যা ও সার-কীটনাশক প্রয়োগের কাজ চলছে। এবার পেঁয়াজ গাছের গঠন খুব ভালো দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ওসমানপুর ইউনিয়নে ৭৬৬ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া জানিপুর ইউনিয়নে ৭৩১ হেক্টর, বেতবাড়িয়া ইউনিয়নে ৫৯১ হেক্টর, জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নে ৫৬৯ হেক্টর, শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৪৬৫ হেক্টর, পৌরসভায় ২৬০ হেক্টর, শোমসপুর ইউনিয়নে ২৬৮ হেক্টর, খোকসা ইউনিয়নে ১৫৪ হেক্টর, গোপগ্রাম ইউনিয়নে ১০৫ হেক্টর ও আমবাড়িয়া ইউনিয়নে ৬৩ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টেঙ্গি ও কাঁচি হাতে সকালে চাষিরা নেমে পড়েছে পেঁয়াজ খেতে। পেঁয়াজের গোড়া আলগা করা ও আগাছা পরিষ্কার করার লক্ষ্যে সারাদিন কাজ করছেন তারা। আবার কেউ কেউ সার ও কীটনাশক প্রয়োগ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। মাঠজুড়ে পেঁয়াজ পরিচর্যার দৃশ্য দেখা গেছে। উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের ঈশ্বরদী গ্রামের লিটন বিশ্বাস বলেন, এখন পেঁয়াজের পরিচর্যা চলছে। এ বছর পেঁয়াজের গাছ খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে ফলনও খুব ভালো হবে।
তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজ আবাদে অনেক খরচ। পেঁয়াজ উত্তোলনের সিজনে পেঁয়াজের বাজারমূল্য ভালো থাকলে কৃষকের সুবিধা হবে। তা না হলে লোকসানে পড়বে চাষিরা। জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়নের কৃষক আবু হোসেন বলেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় পেঁয়াজ আবাদে খরচ অনেক বেশি। প্রতিবিঘা পেঁয়াজ আবাদ করতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে যায়। যারা বর্গা খেত করে তাদের লাভ তেমন হয় না। তারপরও তারা দামের আশায় পেঁয়াজের আবাদ করে। আমরা এখন পেঁয়াজের সব ধরনের পরিচর্যা করছি। আশা করছি এ বছর পেঁয়াজের ফলন ভালোই হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, প্রতিবছরের মতো এ বছরও খোকসা উপজেলার কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার পেঁয়াজের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি প্রশিক্ষণ প্রদান করায় কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রা থেকেও অধিক জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য স্থানীয় কৃষকরা পাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
