খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুন ২০২৬, ৩:৮ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতার মাধ্যমে কুষ্টিয়াকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বক্তারা। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সামাজিক সংগঠন ক্লিন কুষ্টিয়া-গ্রিন কুষ্টিয়া আয়োজিত সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভায় পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে এ আহ্বান জানানো হয়। গত গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টায় কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়।
র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ক্লিন কুষ্টিয়া-গ্রিন কুষ্টিয়ার আহ্বায়ক আব্দুল মঈদ বাবুল এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব জামির হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ক্লিন কুষ্টিয়া-গ্রিন কুষ্টিয়ার প্রধান উপদেষ্টা ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির হোসেন সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিপিএম (বার), জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ এবং কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহা. আব্দুল লতিফ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী নির্মাণের ভিত্তি গড়ে তোলে।” তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশব্যাপী পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তা পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো পরিবেশ সংরক্ষণে যে গুরুত্ব দেয়, আমাদের দেশেও সে বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির হোসেন সরকার বলেন, ক্লিন কুষ্টিয়া-গ্রিন কুষ্টিয়া সংগঠনটি গত দেড় বছর ধরে কুষ্টিয়াকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গত ৫ জুন কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও ঈদের ছুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই বিলম্বিত হলেও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কুষ্টিয়াকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। আমরা চাই কুষ্টিয়ার প্রতিটি রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং কুষ্টিয়া একটি সবুজায়িত নগরীতে রূপান্তরিত হবে।” এ লক্ষ্যে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বক্তারা বলেন, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণকে কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, নিয়মিত বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ নগর ও গ্রাম গড়ে তোলার প্রত্যয়ে একমত পোষণ করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে নতুন প্রেরণা জোগাবে এবং কুষ্টিয়াকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য জেলায় পরিণত করার আন্দোলন আরও বেগবান হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য