খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৩, ৬:৩১ এএম

প্রায় ১৩ বছর পর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন। দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ার ফলে নেতা-কর্মিদের মাঝে উৎসব উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে শহর। বিকেল ৩টায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে সংগঠনটির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন।

কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোঃ আখতারুজ্জামান লাবু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মোঃ সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্রের সূত্রে জানা যায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। উদ্বোধন করবেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু।
স্বেচ্ছাসেবকলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আ.ক.ম সরওয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সৈয়দ নাসির উদ্দিন, কাজী শাহানারা ইয়াসমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল হাসান জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সায়েম ও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছাইদুর রহমান (ছিন্টু)। এদিকে নতুন কমিটিতে পদ-পদবি পেতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতা ছাড়াও বিতর্কিতরা চেষ্টা করছেন নেতৃত্বে আসার জন্য।
বর্তমান কমিটির নেতারা চান ভোটাভুটির মাধ্যমে নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হোক। তবে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতারা বলয়ের লোককে নিয়ে কমিটি গঠন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ দলীয় নেতা-কর্মিদের। বিতর্কিতদের নিয়ে পকেট কমিটি দেওয়ার জন্য ভেতরে ভেতরে তারা কাজ করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে,‘ ২০১০ সালে ২৮ অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সর্বশেষ দলীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনের পর ২০১২ সালে আক্তারুজ্জামান লাবুকে সভাপতি ও নিখোঁজ নেতা সাজ্জাদ হোসেন সবুজকে সাধারন সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৫ সালে একটি হত্যাকান্ডের ঘটনার পর সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ মেলেনি। পরে যুগ্ম সম্পাদক সেলিম রেজাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক করা হয়। এক যুগের বেশি সময় পর মঙ্গলবার একই স্থানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাউন্সিল হতে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর কাউন্সিল ঘিরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, বর্তমান কমিটির দায়িত্বরতরা ছাড়াও হত্যা মামলার জেলখাটা কয়েদি, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি ছাড়াও অপহরনের মত ঘটনার সাথে জড়িতরা পদ প্রত্যাশি। সভাপতি পদে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তারা হলেন বর্তমান কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক দুই সভাপতি আলী মূর্তজা খসরু, ইয়াসির আরাফাত তুষার, সদর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল আহমেদ, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক জাকির হোসেনসহ আরও কয়েকজন দৌঁড়ঝাপ করছেন। হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয় জাকিরের। এক বছরের বেশি ধরে কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি আপিলে জামিনে আছে। এছাড়া আরো ৪টি মামলা চলমান।

এদিকে সাধারন সম্পাদক পদ পেতে চেষ্টা করছেন বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক সেলিম রেজা, শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাইমুল ইসলাম শিপন ও সাধারন সম্পাদক মানব চাকী। এদের মধ্যে ২ জনের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান কমিটির দুইজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,‘ সভাপতি প্রার্থী ইয়াসির আরাফাত তুষার ও সাধারন সম্পাদক প্রার্থী মানব চাকী আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের লোক। তাই সম্মেলনের আগেই কারা কমিটিতে আসছেন তা অনেকটা পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন,‘ বিতর্কিত বেশ কয়েকজন পদ প্রত্যাশী। আমরা চাচ্ছি প্রকৃত নেতারা-কর্মিরা নেতৃত্বে আসুক। চাপিয়ে দেওয়া দলে সেটা হবে দু:খজনক।’
জেলার সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু বলেন,‘ দীর্ঘদিন পর কাউন্সিল হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচন হোক এটা আমরা চাচ্ছি। ভোটাভুটি হলে ভাল হয়। সবাই প্রার্থী হতে পারে, ভোট যারা বেশি পাবে তারা দলের নেতৃত্বে আসুক। তবে পকেট কমিটি করার গুঞ্জনও আছে। এটা নিয়ে চিন্তিত প্রকৃত নেতা-কর্মিরা।
মন্তব্য