কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মিরপুরে অঞ্জনগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অবৈধ শিক্ষক নিয়োগের মহোৎসব 

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের অঞ্জনগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ভয়াবহ অনিয়ম, জালিয়াতি ও অর্ধকোটি টাকার বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ব্যাকডেটে (পূর্বের তারিখ দেখিয়ে) একাধিক ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদের এমপিওভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমান প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন নাসির এবং তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির প্রত্যক্ষ যোগসাজশে ভুয়া রেজুলেশন ও কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ।

 

স্থানীয় সূত্রে ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অঞ্জনগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকেই নিয়োগ বাণিজ্যের এক অঘোষিত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। নিয়ম—নীতির তোয়াক্কা না করে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের (মাউশি) নীতিমালা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন নাসির সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে পেছনের তারিখে (ব্যাকডেটে) নিয়োগ দেখানো হয়েছে। এজন্য ভুয়া রেজুলেশন তৈরি এবং তৎকালীন তদারকি কর্মকর্তাদের তথ্য গোপন করে জাল কাগজপত্র তৈরি করা হয়। পরবর্তীকালে এসব ভুয়া কাগজের মাধ্যমেই তাদের এমপিওভুক্ত সম্পন্ন করা হয়। 

 

বিদ্যালয়ের এমন দুর্নীতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন মহল ও প্রকৃত যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অঞ্জনগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি বড় অংশের নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ। নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত পরিচালনা করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে এবং এই জালিয়াতির প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে।

 

নিয়োগ অনিয়মের এই বিস্তর অভিযোগের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নড়েচড়ে বসেছে দপ্তরটি। দ্রুতই একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে স্কুলের রেজুলেশন বই, নিয়োগ সংক্রান্ত মূল ফাইল এবং এমপিও আবেদনের কাগজপত্র যাচাই—বাছাই করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অনিয়মে যুক্ত প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন নাসির বলেন, নিয়ম মেনেই শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা জানান, আমরা এ বিষয়য়ে কোন কথা বলতে চাচ্ছি না, এইটা আমাদের অফিসিয়াল বিষয়। এধরনের নিয়োগ কিভাবে হয় তা আপনারাই ভাল জানেন, আমরা এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করতে চাই না। তবে সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, অনতিবিলম্বে অঞ্জনগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবৈধ নিয়োগ বাতিলসহ এই চক্রের মূল হোতা প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর