বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রাত তখন পৌনে ১০টা। ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ির মঞ্চে উঠলেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সংগীতশিল্পী সালমা। তাঁর কণ্ঠে একে একে বেজে উঠল লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক গান। গানের সুরে মগ্ন হয়ে পড়েন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। গানের ফাঁকে নিজের শৈশব, লালন আখড়াবাড়ির প্রতি টান এবং কুষ্টিয়ার মেয়ে হিসেবে গর্বের কথা তুলে ধরেন এই শিল্পী।
লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে সালমা গেয়ে শোনান, ‘পাবে সামান্য কি তারে দেখা’, ‘বেদে নাই যার রূপরেখা’, ‘সে কি রে সামান্য চোরা ধরবে কোনাকান্চিতে’, ‘কই দিনে হয় দিনে হয় রজনী’ ও ‘মিলন হবে কতদিনে’সহ বেশ কয়েকটি গান।
গানের ফাঁকে দর্শকদের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগাভাগি করেন সালমা।
তিনি বলেন, ছোটবেলায় বাবা-কাকাদের সঙ্গে লালন আখড়াবাড়িতে আসতেন। তখন এই সাধক ও সাধনভূমিকে ঘিরে তাঁর মনে যে ভয় ও শ্রদ্ধামিশ্রিত অনুভূতি কাজ করত, এখনো তা বদলায়নি।
সালমা বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে একটু পরিবর্তন হয়েছে। তখন থেকেই আমার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেয়ে গেছে, আমি ছোটবেলা থেকে বাবা-কাকার সঙ্গে যখন লালনে আসতাম, তখন যেমন ভয় পেতাম, এখনো তেমনি ভয় পাই।’
লালনের মতো সাধকের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এত গুণীজন ও সাধকদের মাঝে তিনি নিজেকে অতি নগণ্য মনে করেন। গুরুর দোয়ায় তিনি সংগীতচর্চা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
দর্শকদের উদ্দেশে সালমা বলেন, ‘আমি আপনাদের মেয়ে, আপনাদের কন্যা।’
কুষ্টিয়ার সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘সারাবিশ্বে আমি বলতে পারি, আমি কুষ্টিয়ার মেয়ে।’
তাঁর কথায় উঠে আসে জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা ও শেকড়ের প্রতি টান। লালনের গানের পাশাপাশি নিজের জীবনের স্মৃতি ও অনুভূতি ভাগাভাগি করে দর্শকদের সঙ্গে এক আবেগঘন সংযোগ তৈরি করেন এই শিল্পী।
লালন স্মরণোৎসবের মঞ্চে সালমার পরিবেশনা শুধু গানেই সীমাবদ্ধ ছিল না; শৈশবের স্মৃতি, সাধক লালনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কুষ্টিয়ার পরিচয় নিয়ে তাঁর গর্বও হয়ে উঠেছিল পরিবেশনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।









