বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে জনজীবন রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকাল গড়াতেই যেন চারপাশ থেকে আগুন ঝরাচ্ছে সূর্য। তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, তবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাচ্ছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষগুলো চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মজমপুর গেইট এলাকার রিকশাচালক রাজু তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, তীব্র গরমে রিকশা চালাতে গিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি।
স্যালাইন ও পানি খাওয়ার পরও অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। একই অবস্থার কথা জানান স্থানীয় সিএনজি চালক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পেট চালাতে তো বের হতেই হবে। কিন্তু এই গরমে গাড়ি চালানো যেন যন্ত্রণা। রোদে বেশিক্ষণ থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ায় এসব খেটে খাওয়া মানুষের দৈনিক আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এছাড়া খোলা আকাশের নিচে কাজ করা নির্মাণ শ্রমিকরা পড়েছেন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। তীব্র দাবদাহের কারণে প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা বাইরে বের হচ্ছেন না। গরমে পানিশূন্যতা ও ক্লান্তিতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
তবে এই অসহনীয় তাপমাত্রার মাঝে কিছুটা স্বস্তির খোঁজে শহরের শরবত, আখের রস, ডাব ও তালশাঁসের দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে। কুষ্টিয়া পৌরসভার সামনের শরবত বিক্রেতা রুমন জানান, গরমে বিক্রি একটু বাড়লেও, সারাদিন রোদে দাঁড়িয়ে থাকাটা খুব কষ্টকর। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইকবাল হাসান বলেন, গরমে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন ও ডাবের পানি খাওয়া, পাতলা সুতির জামাকাপড় পরা এবং ছাতা ব্যবহার করা জরুরি। তিনি বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের গরম থেকে সাবধানে রাখার পরামর্শ দিয়ে জানান, বর্তমানে শ্বাসকষ্ট, বদহজমসহ হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এদিকে, আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলমান এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞরাও প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পানসহ সার্বিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন।
