বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পরিবারের ভাগ্য বদলাতে এবং প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে এক যুগ আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের কবুরহাট গ্রামের আইনাল হকের ছেলে মামুন। স্বপ্ন ছিল প্রবাসের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের অভাব দূর করবেন, ভবিষ্যৎ গড়বেন এবং একদিন সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে আপনজনদের কাছে ফিরে আসবেন। কিন্তু সেই ফেরা যে এতটা বেদনাবিধুর হবে, তা কখনো ভাবেননি তার স্বজনরা।
দীর্ঘ ১২ বছর প্রবাসজীবন কাটানোর পর আজ দেশে ফিরেছেন মামুনের নিথর দেহ। জীবিত অবস্থায় নয়, কফিনবন্দি হয়ে ফিরেছেন তিনি। পরিবারের স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা ও নানা মানসিক চাপের মধ্যেই মামুনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পাঁচ দিন পর তার মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। ঢাকার বিমানবন্দরে মামুনের মরদেহ গ্রহণ করেন তার বড় ভাই উজ্জ্বল, বন্ধু পাভেল, সুজন ও আওলাদ হোসেন দুলালসহ স্বজনরা। প্রিয় মানুষটির মরদেহ গ্রহণের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।
এক যুগ আগে যে বিমানবন্দর থেকে স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের প্রত্যাশা নিয়ে বিদেশের পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন মামুন, সেই বিমানবন্দরেই আজ স্বজনদের অপেক্ষা করতে হয়েছে তার নিথর দেহ গ্রহণের জন্য। প্রিয় মানুষটির ফিরে আসার অপেক্ষার শেষ হয়েছে বুকভরা কান্নায়। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, মামুন একদিন প্রবাসের কষ্টের দিনগুলো শেষ করে হাসিমুখে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই ফেরা হলো জীবনের ওপারে চলে গিয়ে। স্বজনরা জানান, মভঁ শনিবার ভোরে মামুনের মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাড়ির উঠানে তখন স্বজন-প্রতিবেশীদের ভিড় হবে।
থাকবে প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখার আকুতি, থাকবে কান্না আর স্মৃতি। তবে থাকবে না মামুনের কণ্ঠস্বর, থাকবে না আপনজনকে ডাকার সেই পরিচিত শব্দ। এক যুগ ধরে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে প্রবাসের মাটিতে কাটিয়েছেন মামুন। তার করুণ মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল—প্রবাসীরা শুধু অর্থ উপার্জন করেন না; পরিবারকে ভালো রাখার স্বপ্ন নিয়ে তারা দূরদেশে নিজেদের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় বিসর্জন দেন। মামুনের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।









