অন্তরালে তামাক কারখানার মালিকানা ও রাজনৈতিক সমীকরণ
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত ‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো লিমিটেড’-এ জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) প্রধান সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর একটি সফর ঘিরে স্থানীয় রাজনীতির অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
গত রবিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লালন শাহ’র আখড়াবাড়ীতে তাঁর ওপর অনভিপ্রেত এক হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই মূলত জেলাজুড়ে নাসির পাটোয়ারীর কুষ্টিয়ায় অবস্থানের বিষয়টি চাউর হয়।
দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় তাঁর এমন আড়ালে থাকা উপস্থিতি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, ভেড়ামারার ১০ মাইল এলাকায় অবস্থিত এই কারখানাটির সাথে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক বিতর্কিত কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সবুর লিটনের। পূর্বে এটি ‘তারা টোব্যাকো’ নামে পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে কৌশলগত কারণে নাম বদলে রাখা হয় ‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো লিমিটেড’।
কাগজে-কলমে বর্তমানে এ কে এম জিয়াউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর দুবাইয়ে আত্মগোপনে থাকা লিটনের এই ব্যবসায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বড় অঙ্কের অর্থ সংস্থান রয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতার সফরটি কোনো নতুন রাজনৈতিক ছত্রছায়া তৈরির চেষ্টা, নাকি আওয়ামী নেতাদের বেনামী ব্যবসাসমূহের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রক্রিয়া—তা নিয়ে স্থানীয় মহলে নানান জল্পনা চলছে। উল্লেখ্য, এই কারখানার শেড নির্মাণ ও জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে কুষ্টিয়া আদালতে বিচারাধীন।
সফরের কারণ ও মালিকানার বিষয়ে জানতে জেনুইন লিফ টোব্যাকোর চেয়ারম্যান এ কে এম জিয়াউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সরাসরি না এড়িয়ে গিয়ে তাঁদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (ইডি) মুস্তাফিজুর রহমান খোকন মুঠোফোনে নিজেকে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, “আপনারা সরাসরি অফিসে আসলে বিস্তারিত কথা বলা যাবে।” তবে নওফেল ও লিটনের বিনিয়োগের বিষয়ে বিশদ মন্তব্য না করে তিনি কেবল জানান, লিটনের কাছ থেকে তারা টোব্যাকো কিনে নেওয়া হয়েছে।
তথ্য নিয়ে আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, জেনুইন লিফ টোব্যাকোর চেয়ারম্যান এ কে এম জিয়াউদ্দিনের জন্মসূত্রে নিবাস চট্টগ্রামে এবং তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলে এনসিপির রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে গুঞ্জন রয়েছে। চট্টগ্রামকেন্দ্রিক আওয়ামী নেতাদের অর্থায়নে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানে এনসিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শীর্ষ পদ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গোপনে কারখানা পরিদর্শনের এই যোগসূত্রকে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা গভীর সন্দেহের চোখে দেখছেন।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী নেতাদের অবৈধ সম্পদ ও ব্যবসার ওপর যখন নজরদারি বাড়ছে, তখন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এই গোপন সফর নতুন কোনো রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক মেরুকরণের নির্দেশক কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থামছেই না।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটা অত্যন্ত সংগোপনে চলে, এই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে মানুষের ধারণাও খুব কম এবং এই প্রতিষ্ঠানটার মূল চালিকা শক্তি চিটাগাং এর এক সময়কার মেয়রের পুত্র নওফেল, তার পার্টনার লিটন নাম করে একজন।
তারা এটা দেখভাল করে এবং এটা সাউন্ডলেস অবস্থায় তারা পরিচালনা করে। তাদের নিয়ে নানা ধরনের বিতর্কও রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠাতা নিয়ে অনেক মানুষের সন্দেহ রয়েছে। এই রকমের একটা জায়গায় সে ব্যক্তিগত সফরে আসলো যেটার মালিক আওয়ামী লীগ। সেখানে তার ব্যক্তিগত কাজ থাকে.? এটা সাংঘাতিক একটা সন্দেহের উপক্রম হয়েছে এখানে।
তাহলে কি তারা আওয়ামী লীগের সাথে জোগসাজোগ করে কোন পৃষ্ঠপথকতা করতেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন জেলা বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।








