কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

স্ত্রী-দোকানদার একসঙ্গে উধাও, দুই পরিবারে উদ্বেগ

সবুজ আলী, খোকসা ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এক মুসলিম যুবক চঞ্চল হোসেন চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন রতন কুমার রায় নামে এক ব্যক্তি। অন্যদিকে নিজের স্বামীকে ফিরে পেতে থানায় অভিযোগ করেছেন চঞ্চলের স্ত্রী মোছা. বিনা খাতুন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খোকসা পৌরসভার জানিপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি ব্যবসা করতেন রতন কুমার রায় ও চঞ্চল হোসেন। রতনের অভিযোগ, দোকানে ব্যবসা করার সময় তার স্ত্রী মুক্তা রাণী রায়ের সঙ্গে চঞ্চলের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে একাধিকবার তাদের সতর্ক করা হলেও তারা তা মানেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

রতন কুমার রায়ের দাবি, গত ২ সেপ্টেম্বর সকালে তার স্ত্রী তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর নগদ এক লাখ টাকা, প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ বাড়ির কিছু মালামাল নিয়ে চঞ্চল হোসেনের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় তিনি খোকসা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তার ১০ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

রতন কুমার রায় বলেন, “আমার দোকানের সামনে চঞ্চল টেইলার্সের দোকান ছিল। দোকান করার সময় আমার স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারি। আমরা পারিবারিকভাবে কয়েকবার বসে দুজনকেই নিষেধ করেছি। ঘটনার দিন আমার স্ত্রী আমাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর টাকা, স্বর্ণ ও মালামাল নিয়ে চঞ্চলের সঙ্গে চলে গেছে বলে আমার অভিযোগ। আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরে পেতে চাই।”

 

অন্যদিকে চঞ্চল হোসেনের স্ত্রী মোছা. বিনা খাতুনের অভিযোগ, তার স্বামী চঞ্চল হোসেনের সঙ্গে মুক্তা রাণীর সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনিও স্বামীকে নিষেধ করেন। পরে স্বামীকে বিদেশে পাঠানোর জন্য নিজের বাবার বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করেন এবং ঋণ করেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

বিনা খাতুন বলেন, “আমার স্বামীকে সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য বাবার বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করেছি এবং প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ করেছি। বিদেশে থাকা অবস্থাতেও তিনি মুক্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে জানতে পারি। দেশে ফেরার পর তিনি কোথায় গেছেন, আমি জানি না। আমার ১০ বছরের একটি সন্তান ও শাশুড়ি রয়েছে। এখন সংসার কীভাবে চালাব, বুঝতে পারছি না। আমি আমার স্বামীকে ফিরে পেতে চাই।”

 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রায় এক মাস আগে খোকসা থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে এখনো কোনো অগ্রগতির খবর পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা খোকন বলেন, তিনি নিয়মিত রতনের দোকানে যাতায়াত করেন। চঞ্চলের দোকানও রতনের দোকানের পাশে ছিল। তাদের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি আগে শুনেছেন বলে জানান তিনি। তবে বর্তমানে চঞ্চল ও মুক্তা কোথায় আছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানেন না বলেও জানান তিনি।

 

চঞ্চলের মা অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে সৌদি আরবে ছিলেন। মুক্তা রাণী তাকে প্রভাবিত করে দেশে এনে কোথায় নিয়ে গেছেন, তা তিনি জানেন না।

 

এদিকে রতন কুমার রায়ের অভিযোগে মুক্তা রাণী রায়, তার বাবা সরজিৎ কুমার গুহ এবং মা পুষ্প রাণী গুহের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে চঞ্চলের স্ত্রী বিনা খাতুনের অভিযোগেও মুক্তা রাণী ও পুষ্প রাণীর নাম উল্লেখ রয়েছে।

 

তবে অভিযোগে উল্লিখিত পরকীয়ার সম্পর্ক, ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো, টাকা-স্বর্ণ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগসহ অন্যান্য বিষয়গুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

 

এ বিষয়ে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, “অভিযোগটি অনেক দিনের। তখন অন্য অফিসার দায়িত্বে ছিলেন। ওই মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারবেন।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর