রঞ্জুউর রহমান ॥ ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি কালেক্টরেট চত্বর প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রবীণ নাগরিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ সেখ, জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু তৈয়ব মো. ইউনুছ আলী এবং বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মাজমাদার।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রবীণ নাগরিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, জেলার প্রবীণ নাগরিকদের অবসর সময়কে আনন্দময় ও অর্থবহ করে তুলতে একটি প্রবীণ কল্যাণকেন্দ্র বা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, ওই কেন্দ্রে প্রবীণদের বিনোদন, পারস্পরিক মতবিনিময়, বই পড়া, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এ ধরনের একটি নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ প্রবীণদের একাকিত্ব দূর করার পাশাপাশি তাঁদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা এবং প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং সমাজে তাঁদের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও জীবনজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের সমাজের সক্রিয় অংশ হিসেবে যুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।









