রঞ্জুউর রহমান ॥ কুষ্টিয়ায় অটিজম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তাদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অভিভাবক ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা অটিজম স্কুল অ্যাসোসিয়েশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তৌহিদ বিন-হাসান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শেখ কামাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ফয়সাল মাহমুদ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলা অটিজম স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন অটিজম স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, অটিজম বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি বলেন, এসব শিশুকে অবহেলা না করে ভালোবাসা, সহযোগিতা ও উপযুক্ত সুযোগ দিতে হবে। তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সামাজিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু তাদের প্রতি একটু সহযোগিতা, সহানুভূতি ও উপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি করা। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
তিনি অটিজম স্কুলে কর্মরত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, অটিজম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের উন্নয়নে শুধু পরিবার নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এসব শিশুর সক্ষমতা ও প্রতিভাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা, সামাজিক সহায়তা এবং কর্মমুখী সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
তারা বলেন, অটিজম কোনো শিশুর সম্ভাবনার সমাপ্তি নয়। যথাযথ পরিচর্যা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেলে অনেক শিশুই নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।
সমাবেশে অভিভাবকেরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি, দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিতকরণ এবং সমাজে তাদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে অটিজম বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অধিকার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।









