সাধু, লালন ভক্ত ও অনুসারীদের পদভারে পূর্ণ এখন ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি। সাঁইজির ধামে একত্রিত হতে পেরে তারা এখন ভাবতত্বে মত্ত। একতারা, দোতারা, ঢোল, খমক, খঞ্জনি আর বাঁশির সুরে মুখোরিত হয়ে উঠেছে লালন ধাম।
ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে সাধু, লালন ভক্ত ও অনুসারীদের পদভারে পূর্ণ

উৎসবে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হয়েছেন দর্শনার্থীরাও। মরা কালি নদীর পাড়ের লালন আখড়াবাড়ির আশ পাশের সবপথ এখন আখড়াবাড়িতে গিয়ে মিশেছে। অখড়াবাড়ির আঙিনায় আসন পেতে বসা সাধু ও লালন ভক্ত বাউলরা দরাজ গলাই গেয়ে চলেছেন সাঁইজির বাণী। লালন সাঁইজির মতে ‘যে নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে’ তাই স্রোষ্টার সান্নিধ্য পেতে হলে নিজেকে চিনতে হবে, সহজ মানুষ হতে হবে, ভজতে হবে মানুষকে। তবেই দেখা মিলবে স্রোষ্টার। আর এজন্য প্রয়োজন সহজ মানুষের সান্নিধ্য।
আখড়াবাড়িতে অবস্থান নেয়া প্রবীণ সাধু দরবেশ নহির ফকির বলেন, ফকির লালন সাইজি নিজেকে দীনহীন কাঙ্গাল ভেবে মানুষকেই সবার উর্দ্ধে স্থান দিয়েছেন। তাই স্রোষ্টার সান্নিধ্য লাভ করতে হলে সৃষ্টির সেরা জীব মানব সাধন প্রয়োজন। আর এখানে এসে সাধুরা কি পেয়েছেন আর পাইনি তা মুখে বলা যেমন দুস্কর, তাইতো আত্মার ক্ষুধা নিবরণে তারা ছুটে আসেন সাঁইজির ধামে। দোল পূর্ণিমার শুদ্ধ আলোয় প্রফুল্ল ছড়াবে সবার মনে এমন প্রত্যাশা সাধুদের। তবে দোল পূর্ণিমার আগেই স্মরণোৎসব হলেও সাধুদের মনের দোলযাত্রা ও আত্মার শুদ্ধি নিজস্ব রীতিতেই হবে।বিনা সুতোয় বাঁধা আত্মার টানে ছুটে আসা সাধুরা আখড়াবাড়িতে থাকেন ভাবতত্বে মোহিত হয়ে। আর এ ভাব প্রকাশের মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধি ও স্রষ্টার সান্নিধ্য পাওয়ায় তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
এদিকে ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র এই আধ্যাত্ম বানীকে প্রতিপাদ্য করে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ীতে ৩দিন ব্যাপী লালন স্মরণোৎসব-এর রবিবার ছিল দ্বিতীয় দিন। এবছর পবিত্র শব-ই-বরাতের কারণে দু’দিন এগিয়ে আনা হয়েছে স্মরণোৎসব। লালন উৎসবের অনুষ্ঠানিকতা আগামী ৬মার্চ রাতে শেষ হলেও দৌলতিথি অনুযায়ী বাউল, সাধু ও ভক্তবৃন্দের অধিবাস শুরু হবে ৬ মার্চ বিকেলে। পরদিন ৭মার্চ ভোরে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণ্যসেবার মধ্যদিয়ে শেষ হবে সাধুদের স্মরণোৎসবের সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা।
উল্লেখ্য, বাউল সম্রাট লালন শাহ তার জীবদ্দশায় ছেঁউড়িয়ার এই আখড়াবাড়িতে চৈত্রের দৌলপূর্নিমা রাতে সাধু, ভক্ত, বাউল-সাধুদের নিয়ে সাধুসঙ্গ উৎসব করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার মৃত্যুর পরও এ উৎসব করে আসছেন তাঁর অনুসারীরা।









